ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার আবহ শেষ হতে না হতেই এবার কিউবার ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়ে নতুন সরকারি নেতৃত্ব খোঁজার চেষ্টা করছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কিউবায় কোনো সম্পূর্ণ অভ্যুত্থান না ঘটিয়ে বরং বর্তমান ব্যবস্থার ভেতরেই ওয়াশিংটনের অনুগত বা নমনীয় নেতৃত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। সাবেক ও বর্তমান মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (NYT)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওয়াশিংটন একতরফাভাবে পুরো সরকার ভেঙে দেওয়ার পরিবর্তে এমন একজন প্রাগম্যাটিক বা নমনীয় নেতা খুঁজছে, যিনি দেশটির সার্বিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারবেন কিন্তু অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সহযোগিতাপূর্ণ হবেন। এ জন্য কিউবার ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে।
‘ভেনেজুয়েলা বা ইরান মডেল’?
মার্কিন গোয়েন্দা পর্যালোচনার বরাতে পত্রিকাটিতে বলা হয়, ভেনিজুয়েলায় রাজনৈতিক রদবদলের পর কিউবাকে আর আলাদা চোখে দেখা যাচ্ছে না। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, কিউবার ভেতরের সরকারি ভিত্তি ও সামাজিক কাঠামো অনেকটাই ইরানের মতো শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক। ফলে দ্রুত ক্ষমতার উত্থান-পতন সেখানে বেশ জটিল।
এছাড়া দেশটির দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা রাউল কাস্ত্রো ও তাঁর পরিবারের অপ্রত্যক্ষ প্রভাব এখনো বড় একটি চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি-নির্ধারকেরা।
কারণ ও প্রেক্ষাপট
ক্যারিবীয় অঞ্চলের এই দ্বীপে অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেলকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করার একটি পরোক্ষ কৌশল প্রয়োগ করছে মার্কিন প্রশাসন। জ্বালানি অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কিউবাকে কার্যত স্থবির করে দেওয়া হয়েছে, যাতে হাভানা সরকার নিজেদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।
তবে প্রতিবেদনটিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি এবং কিউবার কোনো প্রভাবশালী নেতা প্রকাশ্যে এ ধরনের প্রস্তাবের প্রতি সম্মতি দেননি। তা সত্ত্বেও, হোয়াইট হাউসের এই গোপন তোড়জোড় কিউবার ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

