কানাডায় অবস্থানরত একদল বাংলাদেশি নাগরিককে নিয়ে সামনে এসেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগজনক তথ্য। সেদেশের কঠোর অভিবাসন নীতির আওতায় বর্তমানে ৯৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের ‘রিমিউভাল কেস’ বা দেশ ত্যাগের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) সাম্প্রতিক প্রকাশ করা পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে সিবিএসএ-এর সূত্র অনুযায়ী, এই ৯৬৮ জনকেই যে অবিলম্বে একযোগে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে বিষয়টি ঠিক তেমন নয়। মূলত যেসকল বিদেশি নাগরিকের কানাডায় অবস্থান করার আইনি বা বৈধ অধিকার শেষ হয়ে গেছে, তাদেরই পর্যায়ক্রমে সরিয়ে দেওয়ার এই প্রশাসনিক আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
কেন তৈরি হলো এমন পরিস্থিতি?
কানাডার অভিবাসন আইন অনুযায়ী, দেশটিতে কোনো বিদেশি নাগরিকের অবস্থানের বৈধ মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে কিংবা স্ট্যাটাস বাতিলের মতো ঘটনা ঘটলে তাঁর বিরুদ্ধে ‘রিমিউভাল অর্ডার’ জারি করা হয়। সাধারণত তিন ধরণের অর্ডারের মাধ্যমে সরকার এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করে:
- ডিপারচার অর্ডার (Departure Order): এই আদেশের আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে নিজ দায়িত্বে কানাডা ত্যাগ করতে বলা হয়।
- এক্সক্লুশন অর্ডার (Exclusion Order): এই প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কানাডায় পুনঃপ্রবেশ বা পুনরায় আবেদন নিষিদ্ধ করা হয়।
- ডিপোর্টেশন অর্ডার (Deportation Order): এটি সবচেয়ে কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। নির্ধারিত সময়ে ডিপারচার অর্ডার মেনে দেশ না ছাড়লে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপোর্টেশনে রূপ নেয়, যা ভবিষ্যতে কানাডায় প্রবেশের আইনি পথ চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে।
ইতিপূর্বে ফেরত পাঠানো হয়েছে ২২৭ জনকে
সিবিএসএ-এর তথ্যানুযায়ী, কানাডা সরকার এখন অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অন্তত ২২৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইতোমধ্যে কানাডা থেকে নিজ দেশে বা অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, কানাডা সরকার বর্তমানে আইন বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কড়াকড়ি আরোপ করছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটিতে অবস্থানরত কিংবা নতুন করে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট, স্টুডেন্ট স্ট্যাটাসসহ যাবতীয় ইমিগ্রেশন শর্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

