কারাকাসে ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের মধ্যে মার্কিন সমর্থিত রাজনৈতিক উত্তরণ সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হয়েছে। সংকটকবলিত এই লাতিন আমেরিকার দেশটিতে অবশেষে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ সুগম হবে—এমনটাই আশা করছেন ভেনিজুয়েলার সাধারণ নাগরিকরা।
মার্কিন বাহিনীর হাতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপহৃত হওয়ার সাত মাস পর এই সংলাপ শুরু হলো। বর্তমানে ওয়াশিংটনের কড়া নজরদারিতে অন্তর্বর্তীকালীন নেতা ডেলসি রদ্রিগেজ দেশটির শাসনভার পরিচালনা করছেন। লা কার্লোটা এলাকার সাইমন বলিভার পার্ক কনভেনশন সেন্টারে সংলাপের উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেখানে কেবল আলোকচিত্রীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং সংলাপ শেষে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।
এই সংলাপে অংশ নেননি বিরোধী শিবিরের অন্যতম জনপ্রিয় নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদো। নির্বাসিত জীবনযাপন করা এই নেত্রীকে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে মাচাদো জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ার পথে তিনি কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবেন না। মাচাদোর অনুপস্থিতিতে বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দিনোরা ফিগুয়েরা, যিনি গত বুধবার নির্বাসন থেকে দেশে ফিরেছেন। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন অন্তর্বর্তীকালীন নেতার ভাই তথা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ।
আলোচনার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। দিনোরা ফিগুয়েরার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, এই সরাসরি আলোচনা একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। একই সাথে ভেনিজুয়েলার জনগণের জন্য একটি বাস্তব ফলাফল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
উভয় পক্ষের ঘোষিত আনুষ্ঠানিক এজেন্ডা অনুযায়ী, সংলাপে গত ২৪ জুনের জোড়া ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে। উল্লেখ্য, ওই ভূমিকম্পে দেশটিতে ৬,০০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়েও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

