সুদানে চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা দেশটির প্রাচীন মেরো পিরামিডগুলোর অস্তিত্বকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী এই স্থানটি তার অনন্য ও কৌণিক স্থাপত্যশৈলীর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক স্থানটির সুরক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক মাহমুদ সুলেমান সতর্ক করে বলেছেন, স্থানটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে এবং পিরামিডগুলোর কাঠামো ধসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজধানী খার্তুম থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার (১২৫ মাইল) উত্তরে অবস্থিত মেরো এলাকায় ৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৩৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে নির্মিত দুই শতাধিক পিরামিড রয়েছে। এগুলো মূলত কুশ রাজ্যের শাসকদের রাজকীয় সমাধি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সাইটটিতে দায়িত্বরত প্রহরী মোস্তফা আহমেদ জানান, পিরামিডগুলোর গায়ে প্রচুর বালি জমেছে এবং মন্দিরের ভেতর পর্যন্ত বালি ও ঘন আগাছা জন্মেছে। তিনি বলেন, পিরামিডগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ এবং পাথরগুলো খসে পড়তে শুরু করেছে।
প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরিদর্শক মোহাম্মদ মোবারক জানান, জমে থাকা বালি থেকে নির্গত লবণের কারণে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মন্দিরগুলোর ভেতরটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি পাথরগুলোকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং প্রাচীন শিলালিপিগুলোও ক্ষয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক মাহমুদ সুলেমান আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধের কারণে দক্ষ জনশক্তির চলে যাওয়া এবং নিরাপত্তা অস্থিতিশীলতার কারণে বিদেশি মিশনের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে, যা এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের অবনতির প্রধান কারণ।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানে শুরু হওয়া এই প্রাণঘাতী সংঘাত দেশটির অসংখ্য ঐতিহাসিক স্থান ও জাদুঘর ধ্বংস করেছে। ইউনেস্কোর তথ্যমতে, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি সাংস্কৃতিক স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ২২টি জাদুঘর লুটপাট বা ধ্বংস করা হয়েছে।

