চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ‘শাটল ট্রেন’-এর তীব্র সংকট নিরসন ও সার্বিক সংস্কারের দাবিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে রেলপ্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে তিনি শিক্ষার্থীদের পক্ষে ৬ দফা সংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।
এজিএস তৌফিক তুলে ধরেন যে মূল ক্যাম্পাসটি শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পুরোপুরি শাটল ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শিডিউল বিপর্যয় ও বগি সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে, যা সেশনজটের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ৬টি প্রধান দাবি:
-
কোচ ও ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি: ট্রেনের ট্রিপ সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বগি সংযোজন।
-
লুপ লাইনের সম্প্রসারণ: অতিরিক্ত বগি সংযোজনের সুবিধার্থে স্টেশনের লুপ লাইন ও প্ল্যাটফর্ম বড় করা।
-
শিডিউল বিপর্যয় রোধ: ক্লাস-পরীক্ষার সময়ের সঙ্গে মিল রেখে ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা।
-
যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত: ট্রেনের অকার্যকর ফ্যান, লাইটসহ অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ দ্রুত সংস্কার করা।
-
নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন: স্টেশন ও ট্রেনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ এবং পাথর নিক্ষেপ বন্ধের ব্যবস্থা।
-
অবকাঠামোগত সুবিধা: ভাঙা সিট, মেঝে ও দরজা-জানালা মেরামত এবং স্টেশনে পর্যাপ্ত শেড নির্মাণ।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার এই সংকট সম্পর্কে অবগত। বর্তমানে মিটারগেজ লাইনের লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ঘাটতির টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জ থাকলেও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় বিষয়টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

