চলমান বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ দাবি করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি ও দেশব্যাপী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির জাতীয় আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে, সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রঙ্কা এসব দাবির কথা জানান। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের গাফিলতির প্রতিবাদে সারা দেশে ‘ইলেকশন কমিশন ঠিক করো’ কর্মসূচির ডাক দেয় দলটি।
১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির শীর্ষ নেতারা দাবি করেন:
-
ব্যাপক কর্তন: ভারতের ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটিরও বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা দেশের মোট ভোটারের প্রায় ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ।
-
রাজ্যভিত্তিক চিত্র: কেবল মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশেই ২ কোটি করে এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯০ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
-
স্বৈরাচারের অভিযোগ: সিজেপির জাতীয় আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে বলেন, “গণতন্ত্র মানে জনগণ তাদের সরকার ও প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। কিন্তু যেভাবে কোটি কোটি নাগরিককে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, তা কোনো গণতন্ত্র নয়—এটি নিছক স্বৈরাচার।”
কমিশনে অভ্যন্তরীণ মতভেদ ও গোপনীয়তার ক্ষোভ
ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন ও কেন্দ্রীয় ডেটাভিত্তিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের ভেতরের দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, সিদ্ধান্তগুলো সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছিল।
সিজেপির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নতুন ভোটারদের ফর্ম-৬ ব্যবহারে কৃত্রিম জটিলতা তৈরি করা হয়েছে এবং বাদ পড়া ভোটারদের নাম পর্যালোচনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়নি। প্রক্রিয়াগুলোর স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে কমিশন নাগরিকদের কাছে ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখার অন্ধ দাবি জানাতে পারে না।

