নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন এবং সব মিলিয়ে ৩০টি বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, এই সফরে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু এবং আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। প্রতিটি দেশই প্রধানমন্ত্রীর সফরকে পরম আন্তরিকতার সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে ১১ দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ৩০টি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
সফরের এক পর্যায়ে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জেপি মর্গান চেজ আয়োজিত প্রাতরাশ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও বিভিন্ন খাতের সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশের উত্তরণকে স্বাগত জানানো হয় এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে দেশের আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকারের বিষয়টি উঠে আসে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। মাহদী আমিন জানান, এই তিন দেশের প্রতিনিধিই প্রধানমন্ত্রীকে নিজ দেশে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বৈঠকে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি খনিজ সম্পদ ও জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মাহদী আমিন বলেন, সরকার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে চায়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে আটটির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, যার পাঁচটিতে তিনি বক্তব্য রেখেছেন। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, ইউএনএইচসিআর হাইকমিশনার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গেও তার বৈঠক হয়েছে। গেটস ফাউন্ডেশন ও পিস ইনস্টিটিউটের আয়োজনে উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী মতবিনিময় করেছেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসন এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা ও মিডওয়াইফারি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জাস্ট ট্রানজিশন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন।
সফরের এই সময়কালে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং এর চারটিতে বক্তব্য রাখেন। প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগসহ মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানে তার বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে চার দিনে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা ৮০টি বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, যেখানে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

