আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার বাজার প্রসারে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বাংলাদেশের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে পণ্য রপ্তানির সুযোগ কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অব মালয়েশিয়া (এনসিসিআইএম) এবং ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের (এফএমএম) সাথে ডিসিসিআইয়ের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের আলাদা মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় উঠে আসে।
এনসিসিআইএম আয়োজিত ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম: ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণ’ অনুষ্ঠানে তাসকীন আহমেদ বলেন, তৈরি পোশাক, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স, তথ্যপ্রযুক্তি, পাটজাত পণ্য এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য আসিয়ান অঞ্চলে রপ্তানির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সমর্থন প্রয়োজন। এনসিসিআইএম সভাপতি নরসিয়াহরিন বিন হামদিন জানান, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সাথে মালয়েশিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের সংখ্যা বাড়ছে, যা মালয়েশিয়ার বিভিন্ন পণ্য বিপণনের জন্য বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই আয়োজনে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশে প্রধানত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানি করলেও বাংলাদেশের বৃহৎ ও ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত ভোক্তা শ্রেণির বাজারে মালয়েশিয়ায় উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে মালয়েশিয়ায় দক্ষ, পরিশ্রমী ও মানসম্পন্ন জনশক্তি সরবরাহ করে আসছে, যারা দেশটির অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর এফএমএম আয়োজিত ‘স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম: বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড অপরচুনিটিজ’ শীর্ষক সভায় এফএমএম সভাপতি জ্যাকব লি চোর কক বলেন, কয়েক দশক ধরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বেসরকারি খাতের আরও নিবিড় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। জ্যাকব লি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদান অনস্বীকার্য। ভবিষ্যতে এসব কর্মী দেশে ফিরে মালয়েশিয়ায় অর্জিত বিশেষায়িত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের শিল্পায়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন, যা দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের নতুন পথ উন্মোচন করবে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও বেসরকারি খাতের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার করা সম্ভব।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাধা কমিয়ে সহযোগিতা বাড়াতে ঢাকা চেম্বার ও এফএমএম-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তাসকীন আহমেদ ও জ্যাকব লি চোর কক। এই আয়োজনে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরী, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র ডিরেক্টর ড. রাশেদি সাইদ এবং ম্যাট্রেড পরিচালক নাইম আব্দুল রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সফরের অংশ হিসেবে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রায় ৭০টি বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) ম্যাচমেকিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সেশনে ব্যবসায়ীরা সরাসরি মতবিনিময়ের পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা করেন, যা আগামীতে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্কে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব সেশনে তারা ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদান করেন এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন।

