সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মভিসা কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত ২২ জুলাই থেকে এই সমস্যাটি সামনে আসতে শুরু করে। বিভিন্ন সূত্রে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর ভিসা বাতিলের তথ্য পাওয়া গেলেও, আমিরাত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ভিসা বাতিলের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে কাজ করছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) দূতাবাসের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। দূতাবাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী কর্মীদের সমস্যা সমাধানে মিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ প্রবাসীর আবেদনের তথ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং আরও ১ হাজার ৪০০টি আবেদন বর্তমানে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর সেগুলোও পর্যায়ক্রমে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ভিসা বাতিলের এই জটিলতায় দেশে অবস্থানরত হাজারো কর্মী চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারছেন যে তাদের ভিসা কার্যকর নেই। আবার কেউ কেউ আমিরাতে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশনে গিয়ে ভিসা বাতিলের বিষয়টি অবগত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সব কাগজপত্র বৈধ থাকা সত্ত্বেও অনেকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এই সুযোগে বিমান টিকিটের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে; আগে যে ওয়ানওয়ে টিকিট ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, এটি কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়; পাকিস্তান ও নেপালসহ আরও কয়েকটি দেশের কর্মীদের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি নিয়ে আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছে। কূটনৈতিক পর্যায়েও সমস্যাটি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
দূতাবাস প্রবাসীদের সতর্ক করে বলেছে, ভিসা সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা দালাল চক্র অর্থ দাবি করলে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন করা যাবে না। যেকোনো জটিলতায় প্রবাসীদের সরকারি ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরাসরি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার না হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে মিশনটি।
সোমবার (২৮ জুলাই) দূতাবাসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভিসা বাতিলের ঘটনাগুলো কারিগরি ত্রুটির কারণে ঘটছে, নাকি অন্য কোনো বিশেষ কারণে—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থলে ফেরার চেষ্টা করছেন অনেক প্রবাসী।
তবে এই সুযোগে একমুখী (ওয়ানওয়ে) বিমান টিকিটের দামও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

