জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানান, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট তুরস্কের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর ত্যাগ করে। এর আগে ঢাকা থেকে প্রায় ৮ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের ফ্লাইট শেষে তুরস্কের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে বিমানটি ইস্তাম্বুলে অবতরণ করে। সেখানে ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট যাত্রাবিরতি করেন প্রধানমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে বিমানটি নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত থাকবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর সফরকালীন বাসস্থান ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য জাতিসংঘের এই সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মাধ্যমে বিশ্বদরবারে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। ঢাকা ছাড়ার আগে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, নিউইয়র্কে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করবেন।
সফরের প্রথম দিন সকালে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানেও তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন। এরপর বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন আয়োজিত একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন। একই দিন বিকেলে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন।
২৪ সেপ্টেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক একটি উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এই সভার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবারের অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে জোরালো দাবি তুলে ধরা হবে। একই দিন বিকেলে সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সফরকালে বাংলাদেশ দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টের আয়োজন করবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন। এর মধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বরের রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন তিনি। এছাড়া ২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক অন্য ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন সরকারের নেওয়া স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক বিভিন্ন উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।
অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সসহ ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও তাঁর সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ওয়াল স্ট্রিট ও মেটাসহ বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। সফর শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রধানমন্ত্রীর আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় রাত ১১ টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট যোগে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসময় তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন এবং স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করবেন।

