ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩৩ জনের বেশি আহত হয়েছেন। জোড়া দফায় চালানো এই হামলায় শিশু হাসপাতাল, আবাসিক ভবন, চিকিৎসাকেন্দ্র ও গুদামঘরসহ একাধিক বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, বুধবার (১৯ আগস্ট) মধ্যরাত ও বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোরে দুই দফায় মস্কো এই হামলা চালায়। কিয়েভের সোলোমিয়ানস্কি এলাকার একটি শিশু হাসপাতাল হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে জানালার কাচ ভেঙে পড়ে ও কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। এ ছাড়া ব্রোভারি জেলায় আরেকজন নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর মতে, রাশিয়া কিনঝাল ও জিরকন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, ইস্কান্দার ও উত্তর কোরিয়ার কেএন-২৩ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ প্রায় ১৬৮টি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে এই সমন্বিত হামলা চালিয়েছে।
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টা আঘাত
- জেলেনস্কির আহ্বান: হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি ভিত্তিতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহের আকুতি জানান।
- আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা: এই আগ্রাসনের জবাবে সীমান্ত এলাকায় সামরিক বিমান ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করেছে পোল্যান্ড। পাশাপাশি রোমানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ড্রোন দেশটির তুলসিয়া কাউন্টির জনমানবহীন এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।
- রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা: পাল্টা জবাবে রাশিয়ার মস্কো অঞ্চলে ২৫০টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। তেল শোধনাগার ও ডিপোতে হামলার ফলে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারে দেখা দিয়েছে তীব্র পেট্রোল সংকট, যার কারণে অনেক পাম্পে জ্বালানি বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং রাশিয়া পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বরখাস্তের ঘটনা
হামলার উত্তেজনার মধ্যেই অভ্যন্তরীণ অর্থপাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী ইরিনা মুদ্রাকে বরখাস্ত করেছেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। দেশটির দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ‘নাবু’ (NABU) বর্তমানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।

