আসন্ন ফসল কাটার ব্যস্ত মৌসুমকে সামনে রেখে তীব্র কর্মী সংকট মেটাতে বিদেশি কৃষি শ্রমিকদের ভিসা প্রক্রিয়াজাতকরণে বিশেষ অগ্রাধিকার (Priority Processing) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির প্রধান খাদ্যশস্য গম, বার্লি ও ক্যানোলা কাটার মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে দ্রুততম সময়ে বিদেশি অস্থায়ী কৃষি কর্মী আনার প্রক্রিয়ায় এই গতি আনা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার খামার অবকাঠামো এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে ফসল তোলার সময় পর্যপ্ত কর্মী উপস্থিতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
যেসব খাতে জরুরি শ্রমিকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি:
অস্ট্রেলিয়ার খামার ও কৃষি খাত মূলত মৌসুমি ও অস্থায়ী বিদেশি শ্রম শক্তির ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি কর্মী প্রয়োজন যেসব ক্ষেত্রে:
-
খাদ্যশস্য সংগ্রহ: গম, বার্লি ও ক্যানোলা ফসল কাটাই ও সংগ্রহের কাজ
-
মৌসুমি কৃষিকাজ: ফলমূল চাষ, শাকসবজি আহরণ ও খামারভিত্তিক কাজ
-
অস্থায়ী ফার্ম লেবার: আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি পরিচালনা ও খামারের দৈনন্দিন রক্ষণাবেক্ষণ
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা:
বাংলাদেশ থেকে যারা বিদেশে কৃষি, ডেইরি ফার্মিং ও মৌসুমি কাজের উদ্দেশ্যে যেতে আগ্রহী, তাদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার এই জরুরি শ্রম চাহিদা একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খবর।
-
বৈধ চ্যানেলে সুযোগের সম্ভাবনা: অস্ট্রেলিয়া সরকারের এই অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজতর হবে।
-
নিয়মিত চোখ রাখার তাগিদ: বাংলাদেশের যেসকল দক্ষ বা অভিজ্ঞ কৃষি কর্মী অস্ট্রেলিয়ায় কাজের জন্য অনুসন্ধানে রয়েছেন, তাঁদের দেশটির সরকার-অনুমোদিত নিয়োগ মাধ্যম ও অফিশিয়াল ভিসা ব্যবস্থার ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কৃষি খাতের সংগঠনগুলো আশা করছে, এই নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থার কারণে প্রয়োজনীয় শ্রমিক সময়মতো খামারে পৌঁছাতে পারবেন, যা খামার মালিকদের বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে। একই সঙ্গে কৃষি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য এটি ভবিষ্যতে একটি লাভজনক ও নিরাপদ কর্মসংস্থান গন্তব্য হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

