অস্ট্রেলিয়ার লাখ লাখ পরিবারকে নতুন করে আর্থিক চাপে ফেলে আবারও সুদের হার বাড়িয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া (আরবিএ) মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত নীতিনির্ধারণী বৈঠকে ক্যাশ রেট ০.২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৪.৬০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি ২০১১ সালের পর দেশটিতে সর্বোচ্চ সুদের হার এবং চলতি ২০২৬ সালে চতুর্থ দফায় বৃদ্ধি।
মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশিত মাত্রায় না কমায় আরবিএ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে মূল মূল্যস্ফীতির চাপ প্রায় ৩.৬ শতাংশ, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ থেকে ৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। আরবিএ গভর্নর মিশেল বুলক সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় উচ্চ মূল্যস্ফীতি বজায় থাকলে তা মানুষের মজুরি ও ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের আচরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গৃহঋণ গ্রহীতাদের ওপর সরাসরি প্রভাব
নতুন এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়বে গৃহঋণ বা মর্টগেজধারীদের ওপর। ব্যাংকগুলো পুরো ০.২৫ শতাংশ বৃদ্ধি গ্রাহকদের ওপর প্রয়োগ করলে:
-
মাসিক কিস্তি বৃদ্ধি: ৬ লাখ ডলারের মর্টগেজে মাসিক কিস্তি আনুমানিক আরও ৯১ ডলার বাড়বে।
-
সম্মিলিত প্রভাব: চলতি বছরের চার দফার সুদের হার বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবে একই আকারের ঋণে বর্তমানে মাসিক কিস্তি প্রায় ৩৬৪ ডলার পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
কমছে নতুন বাড়ি ক্রেতাদের ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা
সুদের হার বৃদ্ধির ফলে নতুন বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের ঋণ নেওয়ার সক্ষমতাও আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যানস্টারের হিসাব অনুযায়ী:
-
একক কর্মী: উচ্চ সুদের কারণে একজন গড় পূর্ণকালীন কর্মীর ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা বছরের শুরু থেকে ৪৭ হাজার ডলারেরও বেশি কমেছে।
-
দম্পতি: গড় আয়ের একটি দম্পতির ক্ষেত্রে এই হ্রাস প্রায় ৯৫ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী আর্থিক অস্থিরতাও অস্ট্রেলিয়ার মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। ট্রেজারার জিম চালমার্স বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চড়া দামকে বর্তমান মূল্যস্ফীতি না কমার অন্যতম মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

