অস্ট্রেলিয়ায় আগত বাংলাদেশি অভিবাসী ও নবীন চিকিৎসকদের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার প্রক্রিয়া সহজ ও সুগম করতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রবাসী চিকিৎসকদের প্রতিনিধিত্বকারী সর্ববৃহৎ সংগঠন ‘ফেডারেশন অব বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটিজ অব অস্ট্রেলিয়া’ (FBMSA)।
সিডনির পেনরিথে অবস্থিত ওয়েস্টার্ন সিডনি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী বার্ষিক কনভেনশন ও সায়েন্টিফিক সিম্পোজিয়ামের সমাপনী অধিবেশনে এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে নিউ সাউথ ওয়েলসের স্থানীয় মন্ত্রী এবং অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (AMA) নীতিপ্রণেতাদের কাছে বাংলাদেশ থেকে আসা মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার হাসপাতালগুলোতে বিশেষ ‘ক্লিনিক্যাল অ্যাটাচমেন্ট’ এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ইংরেজি দক্ষতার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জোর আহ্বান জানানো হয়।
সম্মেলন ও প্রস্তাবের মূল দিকসমূহ:
-
অভিবাসী ও জুনিয়র ডাক্তারদের সহায়তা: প্রবাসে এসে নিবন্ধন ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান পাওয়ার জটিলতা নিরসনে জ্যেষ্ঠ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান চিকিৎসকদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিয়মিত পেশাগত দিক-নির্দেশনা (Mentorship) প্রদান করা হবে।
-
ক্লিনিক্যাল ট্রেনিং ও প্রশিক্ষণ জোরদার: ভাষাগত ও প্রশাসনিক বাধা দূর করতে বিনামূল্যে ইংরেজি ভাষার প্রশিক্ষণ এবং সরাসরি হাসপাতালভিত্তিক অ্যাটাচমেন্টের সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে অস্ট্রেলীয় সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা তরান্বিত করা হবে।
-
সিডনিতে বৃহৎ সমাবেশ: প্রায় ছয় শতাধিক চিকিৎসক ও তাঁদের পরিবারের অংশগ্রহণে জাঁকজমকপূর্ণ বৈজ্ঞানিক অধিবেশন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। সেশনে আলঝেইমার্স, ক্যানসার ইমিউনোরিসার্চ, হৃদরোগ ও কিডনি চিকিৎসার আধুনিক কলাকৌশল এবং স্নায়ুরোগ নিয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।
-
দেশের চিকিৎসাসেবা ও গবেষণায় অবদান: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী চিকিৎসকদের অর্জিত বৈশ্বিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং যৌথ গবেষণায় কাজে লাগানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ৬টি রাজ্য ও ২টি টেরিটোরিতে প্রায় ১,৮০০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসক মূলধারার চিকিৎসাসেবায় অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রবীণ ও নবীন চিকিৎসকদের এই সমন্বিত প্রয়াস ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশীয় চিকিৎসকদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা।

