যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে (এনওয়াইপিডি) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের উপস্থিতি এক নতুন মাইলফলকে পৌঁছেছে। একসময় যেখানে হাতেগোনা কয়েকজন সদস্যের উপস্থিতি দেখা যেত, সেখানে বর্তমানে এনওয়াইপিডির ৩৩ হাজার ইউনিফর্মধারী সদস্যের মধ্যে ১ হাজারের বেশি কর্মকর্তা বাংলাদেশি-আমেরিকান।
ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নিউইয়র্ক পুলিশের প্রশাসনিক ও বেসামরিক বিভিন্ন পদেও কর্মরত রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মী। নিউইয়র্কে অভিবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সম্প্রসারণ এবং পেশাগত সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে তাদের এই অগ্রযাত্রাকে।
যেভাবে শুরু এবং বেসামরিক পদের ভূমিকা
বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা Shamsul Haq ২০০৪ সালে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন। তিনি জানান, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের জঙ্গি হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অংশ নিতে বাংলাদেশি ও মুসলিম যুবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেও তিনি নিউইয়র্ক পুলিশ একাডেমিতে যোগ দেন এবং পদোন্নতি পেয়ে প্রথম দক্ষিণ এশীয় ও প্রথম মুসলিম লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হিসেবে ইতিহাস গড়ে সম্প্রতি অবসরে যান।
নিউইয়র্ক পুলিশের বেসামরিক পদগুলো (যেমন: ট্রাফিক কন্ট্রোল, স্কুল নিরাপত্তা ও জরুরি সার্ভিস অপারেটর) নতুন অভিবাসীদের জন্য মূল বাহিনীতে আসার সবচেয়ে বড় পথ হিসেবে কাজ করছে। গ্রিনকার্ড বা প্রাথমিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে সিভিল পদে যোগ দেওয়া এসব কর্মীদের প্রায় ৬০ শতাংশই পরবর্তীতে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পুলিশ একাডেমিতে উত্তীর্ণ হয়ে মূল ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তা পদে যুক্ত হয়েছেন।
নেতৃত্বের শীর্ষ পদেও অগ্রগতি
কেবল সংখ্যাতেই সীমাবদ্ধ নয়, যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে বাংলাদেশিরা উঠে আসছেন নেতৃত্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে। বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সার্জেন্ট এরশাদুর সিদ্দিকের তথ্যমতে, এনওয়াইপিডিতে বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন—
-
৪ জন ইন্সপেক্টর
-
২০ জন দৃশ্যমান বা কার্যকরী পদে থাকা অবমুক্ত লেফটেন্যান্ট
-
৮২ জন সার্জেন্ট
-
১০ জন স্পেশাল গোয়েন্দা (ডিটেকটিভ)
উল্লেখ্য, এনওয়াইপিডির সার্বিক সদস্য কাঠামোর মধ্যে ৩৮ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ, ৩৩ শতাংশ হিস্পানিক, ১৭ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ এবং ১২ শতাংশ এশীয় কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। এশীয় ক্যাটাগরির উল্লেখযোগ্য একটি অংশ দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক কর্মীরা।

