উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোয় রচিত হলো এক নতুন ইতিহাস। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার একজন নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। নগর পরিকল্পনামন্ত্রী ও মারাকেশের সাবেক মেয়র ৫০ বছর বয়সী প্রবীণ রাজনীতিক ফাতিমা জাহরা এল মানসুরিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ।
মরক্কোর রাজপ্রাসাদ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নতুন সরকার গঠনের জন্য মানসুরিকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী দল ‘অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’ (পিএএম) সর্বোচ্চ আসনে জয়লাভ করার পর রাজা সংবিধান অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেন।
তিউনিসিয়ার নাজলা বাউডেনের পর সমগ্র আরব বিশ্বের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন পেশায় আইনজীবী এই রাজনীতিক।
নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ ও বাধ্যবাধকতা
মরক্কোর বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে এককভাবে কোনো দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন। ফলে সরকার পরিচালনা করতে মানসুরিকে দ্রুতই অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনা করে একটি শক্তিশালী জোট সরকার গঠন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সরকারের সামনে প্রাথমিক প্রধান কাজগুলো হবে—
-
মেগা প্রকল্প তদারকি: ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন উপলক্ষে দেশজুড়ে চলমান বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ তদারকি ও ত্বরান্বিত করা।
-
অর্থনৈতিক সংস্কার: দেশে সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নাগরিকদের আয় বৃদ্ধি করা এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন।
মরক্কোর সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট
মরক্কোর সংবিধান অনুসারে রাজাই সার্বভৌম ক্ষমতা ও রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকেন। তবে ২০১১ সালের ঐতিহাসিক ‘আরব বসন্ত’-এর প্রেক্ষিতে সংবিধানে সংশোধনী এনে নিয়ম চালু করা হয় যে, নির্বাচনে বিজয়ী দল থেকেই রাজাকে প্রধানমন্ত্রী বেছে নিতে হবে। ওই সংস্কারের ধারাবাহিকতায় এবার নির্বাচনে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসা পিএএম-এর প্রধান মানসুরিকে এই পদে স্থলাভিষিক্ত করা হলো।

