পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়ামবাহী রুশ কার্গো বিমানকে নিজেদের আকাশসীমা (ওভারফ্লাইট ক্লিয়ারেন্স) ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এটি কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত কারিগরি ও পদ্ধতিগত জটিলতার কারণেই সময়মতো অনুমতি প্রদান সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুযায়ী, পারমাণবিক শক্তি বা বিপজ্জনক উপাদান পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশের কাছ থেকে আলাদাভাবে বিশেষ ডিপ্লোম্যাটিক ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়। এ বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার জানান, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং প্রচলিত নির্দেশিকা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওভারফ্লাইট ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়াকরণ করে থাকে। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যকার সমন্বয় ও কারিগরি বাধ্যবাধকতার কারণেই সূচিতে এই বিলম্ব দেখা দিয়েছে।
দুই দেশের বর্তমান ইতিবাচক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ইসলামাবাদ সতর্ক করে দিয়েছে যেন এই টেকনিক্যাল বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খাটো করার চশমায় না দেখা হয়।
বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা
রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামের নির্ধারিত চালানটি ২৪ সেপ্টেম্বরে আসার কথা থাকলেও আকাশসীমা অনুমোদনের অভাবে ফ্লাইট বাতিল করতে হয় রোসাটমকে। দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের মুখে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও, এই বিলম্বে প্রকল্পটি আবারও নতুন অনিশ্চয়তায় পড়ল।
-
নতুন সরবরাহ সূচি: রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (রোসাটম) জানিয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে।
-
প্রথম ইউনিটের কারিগরি জটিলতা: এর আগে প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লির ‘পাইলট-অপারেটেড রিলিফ ভালভ’ (PORV)-এ অপ্রত্যাশিত প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেওয়ায় পরীক্ষামূলক উৎপাদন পিছিয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সময়সূচি অনুযায়ী ইউরেনিয়ামের চালান অক্টোবর-ডিসেম্বরে পৌঁছে সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলেও ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের আগে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে না।

