সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভ এবং ক্রমবর্ধমান জন–অসন্তোষের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুসিচ। তবে পদ ছাড়লেও রাজনীতি থেকে সরছেন না তিনি; আগামী ২৫ অক্টোবরের আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হওয়ার পথ তৈরি করতেই তিনি এই পদ ছেড়েছেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিদায়ী ভাষণে ভুসিচ বলেন, “আমি প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আগামীকাল (সোমবার) সকালে আমি আমার দায়িত্ব পার্লামেন্ট স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করব। এই ভবনে আজই আমার শেষ সন্ধ্যা।”
ট্র্যাজেডি থেকে তীব্র ছাত্র আন্দোলন
২০২৪ সালের ১ নভেম্বর সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর নোভি সাদের একটি রেলস্টেশনের কংক্রিটের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সূচনা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে তা কয়েক দশকের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে বড় আন্দোলনে রূপ নেয়, যাতে অংশ নেন লাখো মানুষ।
বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, স্বচ্ছতার অভাব এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনৈতিক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন। তবে ভুসিচ ও তার মিত্ররা শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
নির্বাচনে জয়ের চেষ্টা ও রাজক্ষমা
আগামী ২৫ অক্টোবর সার্বিয়ায় আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর ভুসিচ নিজেই পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে এই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছিলেন।
-
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্য: সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার সুযোগ নেই ভুসিচের। তাই ২০১৪ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া ভুসিচ এবার পার্লামেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছেন।
-
ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব: ভুসিচের পদত্যাগ কার্যকর হলে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র পার্লামেন্ট স্পিকার আনা ব্রনাবিচ নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
-
নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের দল: ‘স্টুডেন্টস উইন’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এবার সরাসরি পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, যাদের সমর্থন দিচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টিসহ কয়েকটি প্রধান বিরোধী দল।
-
ক্ষমা ঘোষণা: দায়িত্ব ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে ভুসিচ ৪৯ জন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ক্ষমা করেছেন, যাদের মধ্যে ছাত্র আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া ২৩ জন বিক্ষোভকারীও রয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভুসিচের মেয়াদ ২০২৭ সালের মে পর্যন্ত থাকলেও পদত্যাগের কারণে পার্লামেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি চলতি বছরের শেষ নাগাদ সার্বিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও আয়োজন করতে হবে।

