বিদেশে কর্মরত ও বিদেশগামী প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে আসছে সরকার। আগামী দুই মাসের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রবাসী কার্ড’। একক এই স্মার্ট কার্ডটির মাধ্যমে প্রবাসীরা বিমানবন্দর সেবা, স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে রেমিট্যান্স প্রেরণে পাবেন বিশেষ নানাবিধ সুবিধা।
প্রাথমিক পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে এই ডেবিট কার্ডটি প্রবাসীদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
‘প্রবাসী কার্ডে’ যেসব সুবিধা মিলবে
প্রবাসীদের জীবনযাত্রা সহজ করতে ও রেমিট্যান্সে উৎসাহিত করতে এই কার্ডের অধীনে একগুচ্ছ সেবার প্যাকেজ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বিমানবন্দর ও ভ্রমণ সুবিধা: প্রবাসীরা বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার ও দ্রুত ইমিগ্রেশন পারাপারের সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া বিমানের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে মিলবে বিশেষ ছাড়। থাকবে এয়ারপোর্ট পিক-আপ ও ড্রপ-অফ সুবিধা।
- চিকিৎসা ও বিমা: সরকারি হাসপাতালে প্রবাসীদের জন্য আলাদা ‘সেবা বুথ’ এবং নির্ধারিত বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি অন্তর্ভুক্ত থাকবে বিমা সুবিধা, পুনর্বাসন সহায়তা এবং প্রবাসীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা।
- নাগরিক সেবায় অগ্রাধিকার: জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি (মিউটেশন), ইউটিলিটি সংযোগ এবং বিভিন্ন সরকারি লাইসেন্সসংক্রান্ত সেবায় প্রবাসীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
- ব্যাংকিং ও রেমিট্যান্স সুবিধা: বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে মিলবে রিওয়ার্ড পয়েন্ট এবং প্রবাসীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা
প্রকল্পের প্রাথমিক রূপরেখা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে সেবাটি চালু করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বড়সংখ্যক প্রবাসীকে এই সেবার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত ৫০ হাজার প্রবাসীকে এবং ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে প্রায় ২ লাখ প্রবাসীর হাতে এই স্মার্ট কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ দিন ধরে প্রবাসীদের যেসব মৌলিক বিড়ম্বনা ও দাবির বিষয় ছিল, এই একটি কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়নে তার বড় একটি অংশের সমাধান হবে।

