বিদেশি নাগরিকদের ওপর কড়াকড়ি বাড়িয়ে প্রায় এক লাখ ৭৫ হাজারের (পৌনে দুই লাখ) বেশি ভিসা বাতিল করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ ও বসবাসের ক্ষেত্রে বিপুলসংখ্যক মানুষের আইনি সুযোগ রদ করা হলো।
গত সোমবার (১০ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক প্রাক্কলিত বিবৃতিতে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
কেন বাতিল করা হলো ভিসা?
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, ভিসা আইনের ব্যত্যয় ঘটানো, জালিয়াতি, সহিংস উসকানি দেওয়া এবং মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর বা উসকানিমূলক মন্তব্য এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়েও অনেকের ভিসা প্রত্যাহার করা হয়। উদাহরণ হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়:
- সামাজিক মাধ্যমের উসকানি: গত বছর আততায়ীর গুলিতে নিহত মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে উল্লাস প্রকাশ করার অপরাধে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
- ‘বার্থ ট্যুরিজম’ রোধ: জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিশেষ উপায়ে ভিসা গ্রহণ করায় (বার্থ ট্যুরিজম) উত্তর আফ্রিকায় মার্কিন দূতাবাস থেকে শতাধিক দম্পতির ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
‘ভিসা কোনো অধিকার নয়, বিশেষ সুবিধা’
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের মতে, বিদেশি নাগরিকদের জন্য মার্কিন ভিসা পাওয়া একটি ‘বিশেষ সুযোগ’ (Privilege), এটি কোনো মৌলিক অধিকার নয়। সুতরাং যারা এই সুযোগের অপব্যবহার করবে বা আইন অমান্য করবে, তাদের বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্ক্রিনিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই রেকর্ড ১ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছিল দেশটি।
সমালোচনার মুখে অনড় প্রশাসন
মানবাধিকার সংস্থা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক সামাজিক মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের নজরদারির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, এটি বাকস্বাধীনতা হরণ এবং অভিবাসীদের ওপর এক ধরনের বৈষম্যমূলক মানসিকতার প্রকাশ। তবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সার্বিক সমালোচনা সত্ত্বেও নিজেদের গ্রহীত কঠোর অবস্থান থেকে পিছু হটতে নারাজ ট্রাম্প প্রশাসন।

