কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভূরাজনীতি এবং তাইওয়ান সংকট নিয়ে চরম উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে বিরল সফরে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই সফরের পরপরই বিশ্বের দুই শীর্ষ অর্থনৈতিক পরাশক্তির মধ্যকার চলমান তীব্র বাণিজ্য যুদ্ধে সাময়িক বিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর পূর্বে ঘোষিত বাণিজ্য শুল্ক স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও দুই মাসের জন্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংঘাত এড়িয়ে বাণিজ্য বিরোধ মেটানোর পথে হাঁটছে উভয় দেশ। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, উভয় পক্ষই বিদ্যমান উত্তেজনা কমিয়ে আনতে এবং নতুন করে কোনো বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার বিষয়ে একমত হয়েছে। পূর্বে কার্যকর থাকা বাণিজ্য বিরতির সময়সীমা চলতি বছরের নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নতুন সমঝোতার ফলে তা বাড়িয়ে আগামী ২০২৭ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রস্তুতি ও রাজকীয় অভ্যর্থনা
মার্কিন অর্থমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই অস্থায়ী বিরতিকে একটি স্থায়ী চুক্তির রূপরেখা দেওয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে। আগামী নভেম্বরে চীনে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করতে পারেন। ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের সাথে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করা হয়।
এক দশকেরও বেশি সময় পর কোনো চীনা প্রেসিডেন্টের এটি প্রথম মার্কিন মাটিতে আনুষ্ঠানিক সফর। কূটনৈতিক প্রটোকল ভেঙে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে উপস্থিত হয়ে শি জিনপিংকে শত ফুট দীর্ঘ লাল গালিচা সংবর্ধনা, ২১ বার তোপধ্বনি এবং বিমানবাহিনীর বিশেষ মহড়ার মাধ্যমে স্বাগত জানান। সমঝোতার ভিত্তি রাজনৈতিকভাবে দৃঢ় করতেই এই রাজকীয় আয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কৌশলগত মতপার্থক্য ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
আপাত বিশ্ব উষ্ণতার আড়ালে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের গভীর কৌশলগত মতপার্থক্য এখনও কাটেনি:
-
বাণিজ্যিক সমঝোতা: আর্থিক সেবা খাত উন্মুক্তকরণ এবং চীন কর্তৃক অতিরিক্ত মার্কিন কৃষি পণ্য ক্রয়ের মতো বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে।
-
বিদ্যমান সংকট: বিরল খনিজ পদার্থ ও উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রাংশ রপ্তানিতে শর্ত শিথিলের আলোচনা সত্ত্বেও তাইওয়ান প্রণালির সার্বভৌমত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উভয় দেশের বিরোধ বজায় রয়েছে।
সফরে পৌঁছে বিশ্বশান্তি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে উভয় দেশকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে সহযোগী হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

