একটি ফুটবল ম্যাচ থেকে শুরু হয়েছিল তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় ও কঠিন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। জাতীয় সংগীতের সময় এক নীরব প্রতিবাদ তাঁদের জীবন বদলে দিয়েছিল চিরতরে। সেই সাহসী সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ এবার আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেলেন ইরানি নারী ফুটবলার ফাতেমেহ পাশানদিদেহ ও আতেফেহ রামেজানিজাদেহ।
গত বুধবার কুইন্সল্যান্ডের ব্রিসবেনে আয়োজিত একটি বিশেষ নাগরিকত্ব অনুষ্ঠানে এই দুই ফুটবলারকে শপথ পাঠ করান অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক।
প্রতিবাদ থেকে রাজনৈতিক আশ্রয়
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের মার্চ মাসে, যখন নারী এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফরে আসে ইরান নারী জাতীয় ফুটবল দল। টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচে ইরানের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় দুই ফুটবলার ফাতেমেহ ও আতেফেহ গান না গেয়ে সম্পূর্ণ নীরব থাকেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই প্রতিবাদের পর নিজ দেশে ফিরে গেলে নিরাপত্তা ও সাজা পাওয়ার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়।
পরিস্থিতির আশঙ্কায় তাঁরা অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় চান। পরবর্তী সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় ক্লাব ব্রিসবেন রোরের সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলনও শুরু করেন তাঁরা।
নতুন পথচলা ও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া
আশ্রয়প্রার্থী থেকে শুরু করে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণ নাগরিকত্ব পাওয়ার এই দ্রুত রূপান্তরকে নিজেদের জীবনের এক অবিশ্বাস্য অধ্যায় বলে মন্তব্য করেছেন দুই ফুটবলার। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়া জানান, এই দিনটি তাঁদের জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন, গর্বের ও স্বস্তির এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল নাগরিকত্ব পাওয়ার সাধারণ ঘটনা নয়; বরং নারী অধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং একটি চরম অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখে নেওয়া সাহসী সিদ্ধান্তের এক অনন্য নজির হয়ে থাকবে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে।

