বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছে কানাডা সরকার। নতুন নির্দেশনায় বাংলাদেশকে ‘উচ্চমাত্রার সতর্কতা অবলম্বন’ শ্রেণিতেই বহাল রাখা হয়েছে। তবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত আরও কঠোর করে সেখানে ‘সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলা’র পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (১০ আগস্ট) কানাডা সরকারের আনুষ্ঠানিক ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এই হালনাগাদ নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়।
বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা
কানাডা সরকারের হালনাগাদ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিচারিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় হঠাৎ বিক্ষোভ, পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ ও জনঅস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে আকস্মিকভাবে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়া, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সহিংসতার ঝুঁকি তৈরির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছে দেশটি।
এ কারণে বাংলাদেশে অবস্থানরত কিংবা ভ্রমণে আসা কানাডীয় নাগরিকদের বড় ধরনের যেকোনো জনসমাগম, রাজনৈতিক র্যালি ও রাজনৈতিক বিক্ষোভ এড়িয়ে চলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কঠোর নির্দেশনা
অন্যান্য এলাকার চেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল (খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি) নিয়ে সতর্কতা তুলনামূলক অনেক বেশি কঠোর করা হয়েছে। কানাডা সরকার জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অপহরণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষের ঝুঁকি রয়েছে। তাই কানাডীয় নাগরিকদের ওই তিন পার্বত্য জেলায় সব ধরনের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে গত বছরের সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরে দুই দফায় একই ধরনের ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছিল ওটাওয়া। নতুন হালনাগাদের মাধ্যমে সেই আগের সতর্কবার্তাই বহাল রাখল কানাডা সরকার।

