কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রয়োগ নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে নানা আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে ঘটল এক অভিনব ঘটনা। অফিসে বারবার দেরিতে আসায় কোনো প্রকার দয়ামায়া না দেখিয়ে সরাসরি নিজের অধীনস্থ এক মানব কর্মচারীকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করেছে ‘লুনা’ নামের এক এআই ম্যানেজার।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকীগুলোতে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই ঘটনাটি ঘটেছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যান্ডন ল্যাবস’ পরিচালিত পরীক্ষামূলক স্টোর ‘অ্যান্ডন মার্কেট’-এ।
যেভাবে ঘটল বরখাস্তের ঘটনা
অ্যান্ডন মার্কেটের দায়িত্বে থাকা এআই ম্যানেজার ‘লুনা’-কে পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির ২৩টি কর্মঘণ্টার শিফটের মধ্যে ১৭ দিনই দেরিতে উপস্থিত হন এক মানব কর্মী। শুরুতে লুনা তার নিজের তৈরি উপস্থিতি নীতি প্রয়োগ করতে না পারলেও, অ্যান্ডন ল্যাবসের গবেষকরা নীতিমালাটি তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ামাত্রই সে ওই কর্মীকে অবিলম্বে বরখাস্তের কঠোর সুপারিশ করে। পরবর্তীতে মানব কর্মকর্তারা লুনার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে সেই ছাঁটাই কার্যকর করেন।
এআই বসের কাছে ১ লাখ ডলারের বাজেট!
সংবাদমাধ্যম টাইম-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়, একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে বাস্তবে ব্যবসা পরিচালনা ও মানবকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তা পরীক্ষা করতেই মূলত ‘অ্যান্ডন মার্কেট’ চালু করা হয়। লুনার হাতে ১ লাখ মার্কিন ডলারের ব্যাংক ব্যালেন্স, একটি কর্পোরেট কার্ড, ইন্টারনেট সংযোগ এবং স্টোরের তিন বছরের লিজ তুলে দেওয়া হয়। স্টোর খোলা-বন্ধের সময় নির্ধারণ, পণ্য নির্বাচন থেকে শুরু করে কর্মচারী নিয়োগ ও ছাঁটাইয়ের মতো সব কাজই একা সামলাচ্ছিল লুনা।
তবে ব্যবসায়িক দিক থেকে এআই বস আপাতত কিছুটা লোকসানে রয়েছে। গত মার্চে দেওয়া ১ লাখ ডলারের বাজেট পাঁচ মাসের ব্যবধানে কমে দাঁড়িয়েছে ৬১,১৮৬ ডলারে।
অ্যান্ডন ল্যাবসের প্রধান নির্বাহী (সিইও) লুকাস পিটারসন জানান, ঘটনাটি এআইয়ের সক্ষমতার পাশাপাশি এর সীমাবদ্ধতাকেও তুলে ধরে। তাঁর মতে, একজন মানুষ ম্যানেজার হলে হয়তো আরও আগেই ওই কর্মচারীকে বরখাস্ত করতেন। তবে এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, নীতিমালা তৈরি ও তা ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগে এআই সিস্টেমগুলোর এখনো কিছু দুর্বলতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও, এআইয়ের হাতে মানব কর্মীর চাকরি হারানোর এই ঘটনা ভবিষ্যতের করপোরেট বিশ্বের এক কঠোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

