অডিট কেলেঙ্কারি ও আয় কমে যাওয়ার মুখে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেপিএমজি (KPMG) অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকারের নতুন চুক্তিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এবং কনসালটিং ব্যবসায় ধসের কারণে প্রতিষ্ঠানটি তাদের মোট জনবলের প্রায় ৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।
কেপিএমজি অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রধান নির্বাহী জন স্যামস জানান, খরচ কমানো ও জনবল কাঠামো পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ২৭ জন পার্টনার এবং প্রায় ৩৬০ জন কর্মীসহ মোট প্রায় ৪০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। মূলত কনসালটিং ও বিজনেস সার্ভিসেস বিভাগেই এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে।
প্রতিষ্ঠানটির সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কনসালটিং বিভাগের আয় ১৬.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এতে কেপিএমজি অস্ট্রেলিয়ার সামগ্রিক বার্ষিক আয় ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২.২৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক নিয়োগ কমা এবং দুর্বল বাজার পরিস্থিতির কারণে এই ধস নেমেছে বলে জানিয়েছে তারা। তবে একই সময়ে অডিট অ্যান্ড অ্যাশিওরেঞ্চ বিভাগে ১১ শতাংশ এবং ট্যাক্স অ্যান্ড লিগ্যাল বিভাগে ১০.৯ শতাংশ আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বড় ধরনের অডিট কেলেঙ্কারির মুখেও পড়েছে কেপিএমজি। পার্লামেন্টারি কমিটির শুনানিতে নতুন চুক্তি পেতে প্রতিষ্ঠানটির কিছু নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের গোপনীয় বোর্ড নথি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে ঘটনা ফাঁস করা এক হুইসেলব্লোয়ারকে বরখাস্ত ও অসদাচরণের বিষয় প্রকাশ পাওয়ার পর সাবেক সিইও অ্যান্ড্রু ইয়েটস ও চেয়ারম্যান মার্টিন শেপার্ডসহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা পদ ছেড়েছেন।
অভিযোগগুলো বর্তমানে ন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন কমিশনেও তদন্তাধীন রয়েছে। এর জেরে অন্তত সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শেষ পর্যন্ত কেপিএমজিকে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকারের নতুন যেকোনো চুক্তির আবেদনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং একাধিক অঙ্গরাজ্যও তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

