যেকোনো সম্পর্কের সমাপ্তি অত্যন্ত কষ্টকর। তবে মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ব্রেকআপের ঠিক পরের প্রথম সপ্তাহটি মানসিকভাবে সবচেয়ে কঠিন। এই সময়ে তীব্র বিষাদ, রাগ কিংবা প্রাক্তন সঙ্গীর কাছে ফিরে যাওয়ার তাড়না দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। আবেগের বশে এ সময় ভুল সিদ্ধান্ত নিলে পরে আফসোসের কারণ হতে পারে।
‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মনোবিজ্ঞানী শিরিন দারগান ব্রেকআপের প্রথম সপ্তাহে নিজেকে সামলে রাখা এবং মানসিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর ৫টি কার্যকর কৌশল শেয়ার করেছেন।
মনোবিজ্ঞানীর ৫টি পরামর্শ:
-
নিজের খেয়াল রাখা: মানসিক কষ্টের কারণে অনেকেই খাওয়া ও ঘুম ভুলতে বসেন। শারীরিক ক্লান্তি মানসিক বিষাদ ও দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই নিয়মিত সঠিক সময়ে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম ও হালকা হাঁটার অভ্যাস শরীর ও মনকে সচল রাখতে সাহায্য করে।
-
আবেগ চেপে না রাখা: দুঃখ, রাগ বা একাকীত্ব অনুভব করলে তা জোর করে চেপে রাখার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিট নিজের মনের কথা ডায়েরিতে লিখুন কিংবা কান্নার মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ করুন। নিজের অনুভূতি স্বীকার করে নিলে মানসিক চাপ অনেকটাই হালকা হয়।
-
সোশ্যাল মিডিয়া ট্র্যাকিং বন্ধ করা: প্রাক্তনের আইডি বারবার দেখা, ছবি বা পুরনো চ্যাট চেক করা কষ্টের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। নিজের মানসিক শান্তির স্বার্থে কিছুদিন প্রাক্তনের প্রোফাইল আনফলো, ব্লক কিংবা মিউট করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
-
একাকীত্ব এড়িয়ে চলা: ব্রেকআপের পর হঠাৎ নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিলে নেতিবাচক চিন্তা ভর করতে পারে। এমন স্বজন বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান, যাদের কাছে আপনি নিজেকে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
-
আবেগের বশে সিদ্ধান্ত না নেওয়া: প্রথম সপ্তাহে অনুভূতি চরম পর্যায়ে থাকে। তাই হুট করে নতুন কোনো সম্পর্কে জড়ানো, দীর্ঘদিনের চাকরি ছেড়ে দেওয়া কিংবা প্রাক্তনকে বারবার ফোন-মেসেজ দেওয়ার মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।
মনোবিদদের মতে, প্রথম সপ্তাহের লক্ষ্য কাউকে ভুলে যাওয়ার প্রতিযোগিতা নয়; বরং নিজেকে সামলে তোলা। তবে বিষাদ, উদ্বেগ ও ঘুম না হওয়ার সমস্যা দীর্ঘদিন টানা চললে বা আত্মঘাতী চিন্তা এলে দেরি না করে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

