অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা বা কাজের খোঁজে স্থায়ী হতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মাইগ্রেশন নীতিমালায় নিয়ে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। অস্ট্রেলিয়া সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ‘পারমানেন্ট মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম’-এ ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটা অপরিবর্তিত রাখলেও অভ্যন্তরীণ ভিসা ক্যাটাগরিগুলোর আসন সংখ্যায় ব্যাপক রেশাফলিং বা রদবদল করেছে।
নতুন এই হিসাবের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য কোন পথে স্থায়ী আবাসন (PR) পাওয়ার সুযোগ বেশি, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন দিকনির্দেশনা।
এমপ্লয়ার স্পন্সরশিপে বড় সুযোগ
নতুন নীতিমালায় সবচেয়ে বড় সুসংবাদ এসেছে এমপ্লয়ার স্পন্সরশিপ (Employer Sponsorship) ক্যাটাগরিতে। এতে কোটা ৪৪ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫৮ হাজার ৪০টি।
-
প্রভাব: অস্ট্রেলিয়ার চাহিদা তালিকায় থাকা পেশার অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা যদি কোনো যোগ্য নিয়োগকর্তার (Employer) স্পন্সর পান, তবে স্থায়ী রেসিডেন্সির পথ অনেকটাই সুগম হবে।
-
ভিসা রুট: ‘স্কিলস ইন ডিমান্ড’ (Subclass 482) ভিসার মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে প্রবেশ করে পরবর্তীতে ‘Subclass 186’ ভিসার আওতায় পিআর নিশ্চিত করার চমৎকার সুযোগ রয়েছে। তবে এতে অভিজ্ঞতা, ইংরেজি দক্ষতা এবং নির্দিষ্ট বেতনসীমার শর্ত পূরণ আবশ্যক।
স্কিল্ড ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও স্টেট নমিনেশন ভিসা
-
Subclass 189 (Skilled Independent): কোনো রাজ্যের সুপারিশ ছাড়াই এই স্থায়ী ভিসার কোটা ১৬ হাজার ৯০০ থেকে বাড়িয়ে ২১ হাজার ৯০ করা হয়েছে। তবে শুধু সর্বনিম্ন ৬৫ পয়েন্ট থাকলেই পিআর মিলবে না; বয়স, ইংরেজি দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক স্কোরের প্রার্থীরাই ইনভিটেশন বা আমন্ত্রণ পাবেন।
-
Subclass 190 (State Nominated): রাজ্য বা অঞ্চলের মনোনয়নভিত্তিক এই ক্যাটাগরিতে কোটা ৩৩ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩৫ হাজার ৫০০ করা হয়েছে। প্রতিটি রাজ্যের চাহিদা ও অগ্রাধিকার তালিকা আলাদা হওয়ায় আবেদনকারীদের রাজ্যভিত্তিক খোঁজ রাখা প্রয়োজন।
আঞ্চলিক বা রিজিয়নাল ভিসায় বড় ধাক্কা
অন্যদিকে আঞ্চলিক ভিসায় বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। ‘রিজিয়নাল ক্যাটাগরি’তে (যেমন: Subclass 491) কোটা ৩৩ হাজার থেকে কমিয়ে ১৪ হাজার ১১০ করা হয়েছে। এর ফলে রিজিয়নাল পথে আগের চেয়ে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি কঠিন হবে। তবে পরবর্তীতে ‘Subclass 191’-এর মাধ্যমে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ এখনও বিদ্যমান।
শিক্ষার্থী ভিসা ও পিআর ভাবনা
শিক্ষার্থী ভিসা (Student Visa) নিয়ে গিয়েই নিশ্চিত পিআর পাওয়ার দিন এখন শেষ বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেবল পড়ার উদ্দেশ্যে যেকোনো কোর্সে ভর্তি না হয়ে, ভবিষ্যতে সেই কোর্স সংশ্লিষ্ট পেশায় ‘স্কিলস অ্যাসেসমেন্ট’ (Skills Assessment) বা এমপ্লয়ার স্পন্সরশিপ পাওয়ার সুযোগ আছে কি না, তা শুরুতেই হিসাব করতে হবে। একই সঙ্গে পিআর প্রক্রিয়ায় আইইএলটিএস (IELTS) বা পিটিই (PTE)-এর ভালো স্কোর পয়েন্ট বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রাখবে।
সতর্কবার্তা
অস্ট্রেলিয়া অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিসা সংক্রান্ত নিয়মাবলী সার্বক্ষণিক পরিবর্তনশীল। তাই শতভাগ ‘পিআর গ্যারান্টি’ কিংবা অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে দ্রুত পিআর বানিয়ে দেওয়ার মতো প্রলোভন বা ভুয়া এজেন্টের থেকে সাবধান থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবেদনের পূর্বে অস্ট্রেলিয়ান ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্স-এর অফিসিয়াল তথ্যাদি যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

