পবিত্র রমজান মাস মুসলিমদের জন্য ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির সময়। বাংলাদেশে রমজান আসার সাথে সাথে মসজিদে আযানের সুর, তারাবির নামাজ, সেহরির সময় ডাকাডাকি আর ইফতারের বাহারি আয়োজনে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য রমজান আসে একেবারেই নিভৃতে, ক্যালেন্ডারের পাতায়। সেখানে রমজানের কোনো বিশেষ আবহ বা সরকারি কোনো ছাড় নেই।
বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন। কর্মব্যস্ত এই দেশটিতে প্রবাসীদের জীবন অনেকটা সংগ্রামের। কারখানায় নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মেনে কাজ করার পাশাপাশি তারা সিয়াম পালন করেন। অমুসলিম দেশ হওয়ায় সেখানে সেহরির জন্য কোনো ডাকাডাকি নেই, ইফতারের আগে কোরআন তিলাওয়াতের সুরও শোনা যায় না। ফলে ঘড়ি বা মোবাইল দেখে সেহরি ও ইফতারের সময় নির্ধারণ করতে হয় তাদের।
বাংলাদেশে ইফতারের প্রধান অনুসঙ্গ খেজুর হলেও, এর পাশাপাশি ছোলা, মুড়ি, বেগুনি, চপ, পিঁয়াজু, বুন্দিয়া ও জিলাপিসহ নানা আইটেম থাকে। কোরিয়ায় বাইরে থেকে ইফতারি কেনার সুযোগ না থাকায় প্রবাসীরা নিজেদের মতো করেই ইফতারের আয়োজন করেন। কর্মদিবসে কাজের ফাঁকে তাড়াহুড়ো করে খেজুর আর পানি খেয়েই অনেককে ইফতার সারতে হয়। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বন্ধুরা মিলে নিজেদের তৈরি রকমারি ইফতারের আয়োজন করেন তারা।
কোরিয়ায় একজন মুসলিমের জন্য ইবাদতের পাশাপাশি হালাল-হারাম মেনে চলাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় খাবারের বেশিরভাগেই শুকরের মাংসের উপস্থিতি থাকায় যেকোনো খাবার কেনার আগে প্রবাসীদের সতর্ক থাকতে হয়। চিপস বা সাধারণ খাবার কেনার সময়ও উপাদানগুলো ভালো করে পড়ে নিতে হয়, যা অনেকের কাছেই বেশ কষ্টসাধ্য।
দক্ষিণ কোরিয়ায় ইসলামের ইতিহাস বেশ পুরনো। ১৯২০ সালের দিকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বলশেভিক বিপ্লব থেকে বাঁচতে তুর্কি মুসলিমরা কোরিয় উপদ্বীপে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে কোরিয় যুদ্ধের সময় জাতিসংঘ বাহিনীর অংশ হিসেবে আসা তুর্কি সেনাদের মাধ্যমে ইসলাম প্রচারের কাজ শুরু হয়। ১৯৬৯ সালে কোরিয় সরকারের দেওয়া জমিতে সিউল কেন্দ্রীয় মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে দেশটিতে তিন শতাধিক ছোট-বড় মসজিদ রয়েছে।
কোরিয়া মুসলিম ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে স্থানীয় কোরিয় মুসলিমের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার, যা মোট জনসংখ্যার ০.৪ শতাংশ। এছাড়া অভিবাসী মুসলিমের সংখ্যা ৩ লাখেরও বেশি। বাংলাদেশসহ পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, মরক্কো ও উজবেকিস্তান থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে কোরিয়ার মসজিদগুলোতে ইফতারের বিশেষ আয়োজন থাকে। প্রবাসীরা সেখানে তারাবির নামাজ আদায় করেন এবং সময় পেলে কোরআন তিলাওয়াতে মশগুল থাকেন। এছাড়া বাংলাদেশি কমিউনিটিগুলোর পক্ষ থেকে রমজান উপলক্ষে কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়, যা প্রবাসীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রমজান উপলক্ষে কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া হলেও কোরিয়ায় এমন কোনো সুবিধা নেই। এমনকি অনেক কোরিয় নাগরিক একজন মুসলিমের ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত না খেয়ে থাকার বিষয়টি দেখে অবাক হন। এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পুরো রমজান মাস রোজা পালন করার চেষ্টা করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পবিত্র রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা যেমন ইবাদতে মনোনিবেশ করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশা করে, তেমনি তাদের খাবারের মেনুটাও পরিবর্তন হয়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পবিত্র রমজানে মুসল্লিদের পদচারণায় মুখর দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল কেন্দ্রীয় মসজিদ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মুসলিম সংখ্যালঘু দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিরাও কি দেশীয় ইফতারের আমেজ পান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নাকি ভিন্ন দেশের ভিন্ন খাবারই খেতে হয় তাদের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিছু ব্যতিক্রম হয়তো আছে, তবে তা উল্লেখযোগ্য নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রমজানে রোজার মূল বিষয়গুলো ঠিক রেখে বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে পালিত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইসলামি দেশে তথা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে রমজানের আবহ অন্য ধর্মাবলম্বী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষদের দেশ থেকে স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন।

