বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক মেঘমল্লার বসু এবং সহসভাপতি মাঈন আহমেদ। শনিবার (২৫ জুলাই) সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাদের দাখিল করা পদত্যাগপত্র কেন্দ্রীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে জানানো হয়, মেঘমল্লার বসু ও মাঈন আহমেদ বর্তমানে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করলে সাংগঠনিক মতদ্বৈধতা এবং স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, যা পর্যালোচনা করে কমিটি গ্রহণ করেছে।
একই প্রেক্ষাপট ও সাংগঠনিক বাস্তবতার কারণে সহসভাপতি নাজিফা জান্নাতকে সংগঠনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংগঠনের আদর্শ ও সাংগঠনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন করা ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক নীতির পরিপন্থি বলেও বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।
এদিকে পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পর মেঘমল্লার বসু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি ছাত্র ইউনিয়নকে তার রাজনৈতিক শিক্ষার স্কুল হিসেবে অভিহিত করে বলেন, সংগঠনের শিক্ষা ও আদর্শ তার মধ্যে সবসময় বিদ্যমান থাকবে। এছাড়া স্বৈরাচার, সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়নের চলমান লড়াই ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় বাম ও মধ্যপন্থী তরুণদের উদ্যোগে গঠিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন’ (এনপিএ)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন ১০১ সদস্যের কাউন্সিলে মেঘমল্লার বসু ও মাঈন আহমেদ যুক্ত হয়েছিলেন। এরপরই তারা ছাত্র ইউনিয়নের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নিলেন।

