জীবিকার সন্ধানে মালদ্বীপে পাড়ি জমানো অনেক বাংলাদেশিই নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়েন। দালাল চক্রের প্ররোচনা কিংবা নিয়োগকর্তার অবহেলার কারণে অনেকে নির্ধারিত কর্মস্থল থেকে পালিয়ে অন্য মালিকানায় কাজ শুরু করেন। এর ফলে কর্মসংস্থান অধিদপ্তরে তাদের বিরুদ্ধে ‘নিখোঁজ’ বা মিসিং রিপোর্ট দায়ের করা হয়, যা তাদের প্রবাস জীবনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করে। তবে সম্প্রতি মালদ্বীপের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবৈধ অভিবাসীদের সুরক্ষায় কর্মসংস্থান নীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রবাসী যদি কর্মস্থল থেকে পালিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও কাজ করেন, তবে তার আগের নিয়োগকর্তা চাইলে এক্সপ্যাট সিস্টেমের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আনা নিখোঁজের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে পারবেন। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে প্রবাসীরা চাইলে মালিকানা পরিবর্তন করে বৈধতা অর্জন করতে পারবেন। বিশেষ এই সুবিধাটি পাওয়ার জন্য আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নিয়োগকর্তারা কোনো প্রকার খরচ ছাড়াই নিখোঁজের অভিযোগ তুলে নিতে পারবেন, যা আগে সম্ভব ছিল না।
মালদ্বীপের এই নতুন নীতিকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশটির বাংলাদেশ হাইকমিশনও এই সুযোগটি কাজে লাগানোর জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত অবস্থায় নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশিদের দ্রুত সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মালদ্বীপের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মো. সোহেল পারভেজ বলেন, যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি মিসিং রিপোর্টের অধীনে রয়েছেন, তারা যেন আগের কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে অভিযোগটি প্রত্যাহার করিয়ে নেন। এরপর বর্তমানে যেখানে কাজ করছেন, সেখানে নতুন ভিসা সংগ্রহ করে বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সুযোগের সফল বাস্তবায়ন অনেকাংশেই নির্ভর করছে মালদ্বীপের নিয়োগকর্তাদের ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার ওপর।

