ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-সহায়ক সহিংসতা প্রতিরোধে একটি কার্যকর আইনি কাঠামো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে বিদ্যমান আইন পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নতুন আইন ও বিধান প্রণয়নে সরকার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ঢাকা ডায়লগ: এন্ডিং ডিজিটাল অ্যান্ড এআই-ফ্যাসিলিটেটেড ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, সাইবার বুলিং, সাইবার হয়রানি ও ডিজিটাল মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে দেশে কিছু আইন থাকলেও এআই-এর দ্রুত বিকাশের ফলে নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের আইন ও অভিজ্ঞতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আইন সংশোধনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই পরামর্শ শুরু হয়েছে। যেহেতু এর সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত, তাই এ ধরনের আইন প্রণয়নে ব্যাপক পরামর্শ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।
নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান জানান, বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিবাহসহ বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে ডিজিটাল নিকাহ, তালাক রেজিস্ট্রেশন এবং ডকুমেন্টেশন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনি সহায়তা ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও জোরদার করা হয়েছে। ডিজিটাল ও এআই-সহায়ক সহিংসতা মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি সমাজের সব স্তরের সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম প্রমুখ।

