পৃথিবীর বুকে মানুষ ইট-কাঠ আর চুন-সুরকি দিয়ে কত শত স্বপ্নের প্রাসাদ গড়ে তোলে। কিন্তু সময়ের নিয়মে একদিন সেই সব প্রাসাদ ধুলোয় মিশে যায়। অন্যদিকে পরকালের জান্নাতে নিজের চিরস্থায়ী নিবাস গড়ে তোলার সবচেয়ে উত্তম উপায় হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পৃথিবীতে তাঁর ঘর অর্থাৎ ‘মসজিদ’ নির্মাণ বা আবাদ করা।
আল্লাহর উদ্দেশ্যে নির্মিত সামান্য অবদানও পরকালের অসীম জীবনে বিশাল প্রতিদানে রূপ নেয়। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে মসজিদ নির্মাণের অশেষ ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে।
জান্নাতে নিজ গৃহ নির্মাণের সুসংবাদ
আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে মসজিদ নির্মাণকারীর জন্য পরকালে জান্নাতে গৃহ নির্মাণের সুসংবাদ দিয়েছেন বিশ্বনবী রাসুলুল্লাহ (সা.)।
হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন:
مَنْ بَنَى مَسْجِدًا يَبْتَغِي بِهِ وَجْهَ اللَّهِ بَنَى اللَّهُ لَهُ مِثْلَهُ فِي الْجَنَّةِ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ ঘর তৈরি করে দেবেন।’ (সহিহ বুখারি: ৪৫০, সহিহ মুসলিম: ৫৩৩)
কুরআনের আলোয় খাঁটি ইমানদারের স্বীকৃতি
পবিত্র কুরআনে মসজিদ নির্মাণ ও তা আবাদকারীদের বিশেষ মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা কেবল তাদেরকেই খাঁটি ইমানদার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, যারা তাঁর ঘর নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে এগিয়ে আসে।
সুরা আত-তওবার ১৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ ۖ فَعَسَىٰ أُولَٰئِكَ أَن يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ‘নিশ্চয়ই তারাই আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনেছে, সালাত কায়েম করেছে, জাকাত দিয়েছে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করেনি। আশা করা যায়, তারা সৎপথ প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’
অনন্ত সওয়াবের উৎস: সদকায়ে জারিয়া
মানুষের মৃত্যুর পর সব আমলের খাতা বন্ধ হয়ে গেলেও কিছু নেক আমলের সওয়াব নিরবচ্ছিন্নভাবে জারি থাকে। মসজিদ নির্মাণ তেমনি এক চিরপ্রবহমান দান বা ‘সদকায়ে জারিয়া’।
যতদিন সেই মসজিদে মুসল্লিরা সেজদা দেবেন, জিকির ও কুরআনের তিলাওয়াত চলবে, ততদিন পর্যন্ত তার সওয়াব নির্মাতা বা অবদানকারীর আমলনামায় যুক্ত হতে থাকবে।
এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
‘মুমিনের মৃত্যুর পর তার আমল ও নেক কাজের মধ্যে যা তার সঙ্গে গিয়ে যোগ হয় তা হলো—যে জ্ঞান সে শিক্ষা দিয়েছে ও প্রচার করেছে, যে সৎ সন্তান সে রেখে গেছে, যে কুরআন সে মিরাস হিসেবে ছেড়ে গেছে, অথবা যে মসজিদ সে নির্মাণ করে গেছে…।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৪২)
নশ্বর এই পৃথিবীর মোহে হারিয়ে না গিয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী এককভাবে কিংবা যৌথভাবে আল্লাহর ঘর নির্মাণে অংশ নেওয়া প্রতিটি মুমিনের জন্য পরকালের মহাউত্তম সঞ্চয়।

