বর্তমান সময়ের ফিতনা-ফাসাদ, প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে তরুণ সমাজ চরম নৈতিক অবক্ষয় ও বিভ্রান্তির মুখোমুখি। বাহ্যিকভাবে মুসলিম পরিচয় বহন করলেও অনেকের চিন্তা ও মূল্যবোধ ভিন্ন সংস্কৃতির প্রভাবে বন্দি হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সন্তানদের সঠিক ও শক্ত ব্যক্তিত্ববান হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষার আলোকেই ইসলামী ব্যক্তিত্ব গড়ার তাগিদ দিয়েছেন আলেমগণ।
ইসলামী ব্যক্তিত্ব বলতে কেবল বিশেষ পোশাক বা বাহ্যিক অবয়ব নয়; বরং সচেতন বিবেক, আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ও উত্তম চরিত্রের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শনকে বোঝায়। শৈশব থেকেই এই ব্যক্তিত্ব গঠনের ভিত্তি তৈরিতে ৫টি মূল আমলের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
১. সঠিক ঈমান ও আকিদা গঠন: ইসলামী ব্যক্তিত্বের প্রধান ভিত্তি হলো দৃঢ় ঈমান। যে সন্তান আল্লাহকে চিনে ও ভালোবাসে, সে দুনিয়ার কোনো মোহে সত্য বিসর্জন দেয় না। তাই ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের আল্লাহর প্রতি অবিচল ভরসা ও ঈমানের শিক্ষা দেওয়া জরুরি।
২. ইবাদতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি: কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী নামাজ মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। নিয়মিত নামাজ, রোজা ও অন্যান্য ইবাদত শুধু পরকালের সওয়াবের জন্য নয়, বরং আত্মসংযম ও মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতেও সবচেয়ে কার্যকর।
৩. উত্তম চরিত্র অর্জন: হাদিস অনুযায়ী, যার চরিত্র যত সুন্দর, তার ঈমান তত পরিপূর্ণ। মিথ্যা বর্জন, আমানত রক্ষা, দুর্বলের প্রতি দয়া এবং অন্যের অধিকার রক্ষা করার মতো মৌলিক চরিত্রভিত্তিক চর্চা ব্যক্তিত্বকে পরিশীলিত করে।
৪. উপকারী জ্ঞান ও প্রজ্ঞার চর্চা: বর্তমান যুগে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য করতে দ্বীনি ও বাস্তবমুখী উপকারী জ্ঞান অর্জনের বিকল্প নেই। জ্ঞান ও চিন্তার শক্তি থাকলে বিভ্রান্তিকর তথ্যের স্রোতে ভেসে না গিয়ে সত্যকে চেনা সহজ হয়।
৫. অর্জিত জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ (আমল): ইসলাম কেবল বইয়ের ভেতরের কোনো আদর্শ নয়। অর্জিত জ্ঞানকে নিজ চিন্তা, পরিবার, লেনদেন ও কর্মক্ষেত্রে বাস্তবে প্রয়োগ করার মাধ্যমেই একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের চরিত্র প্রকাশ পায়।
এ ছাড়া সন্তানদের ব্যক্তিত্ব গঠনে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে। বিশেষ করে অভিভাবকরা নিজেরা আদর্শ ও আমলি জীবনযাপন করলে শিশুরা তা দেখে সহজেই সৎ ও সুন্দর চরিত্রের অধিকারী হয়ে গড়ে ওঠে।

