বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। সম্প্রতি ইউনেস্কোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৩ সালেই বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫২ হাজার ৭৯৯ জন শিক্ষার্থী বিদেশে পড়াশোনা করতে গেছেন। বিদেশের কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি ও স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে ভালো একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি ভাষার দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণের বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে প্রধান যেসব পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় শিক্ষার্থীদের:
-
আইইএলটিএস (IELTS) ও টোয়েফল (TOEFL): ইংরেজিভাষী দেশগুলোতে (যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা) উচ্চশিক্ষার জন্য ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে এই দুটি পরীক্ষা সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য। উভয় পরীক্ষায় শিক্ষার্থীকে রিডিং, রাইটিং, লিসেনিং ও স্পিকিং—এই চার অংশে মূল্যায়ন করা হয়। ১ থেকে ৯ স্কোরের আইইএলটিএস বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে দেওয়া যায়। অন্যদিকে, ১২০ নম্বরের টোয়েফল পরীক্ষা পরিচালিত হয় ‘ইটিএস’-এর তত্ত্বাবধানে, যা বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রির জন্য বেশ জনপ্রিয়।
-
জিআরই (GRE) ও জি-ম্যাট (GMAT): বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) বিষয়ের শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পর্যায়ে ভর্তির জন্য জিআরই (GRE) স্কোর প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, বিজনেস স্কুল ও এমবিএ কোর্সে আবেদনের জন্য লাগে ৮০০ নম্বরের জি-ম্যাট (GMAT) পরীক্ষা। উভয় পরীক্ষার অর্জিত স্কোরের মেয়াদ থাকে পাঁচ বছর।
-
স্যাট (SAT): এইচএসসি বা সমমানের পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতক (আন্ডারগ্র্যাজুয়েট) পর্যায়ে ভর্তির জন্য ১৬০০ নম্বরের স্যাট (SAT) পরীক্ষা দিতে হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গাণিতিক ও বিশ্লেষণাত্মক সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
-
টেস্টড্যাফ (TestDaF)/ডিএসএইচ (DSH) ও জেএলপিটি (JLPT): জার্মানি বা জাপানের মতো অ-ইংরেজিভাষী দেশে স্থানীয় ভাষায় পরিচালিত কোর্সে ভর্তির জন্য নিজস্ব ভাষার দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। জার্মানির জন্য ‘টেস্টড্যাফ’ বা ‘ডিএসএইচ’ এবং জাপানে পড়াশোনার জন্য ‘জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ প্রফিসিয়েন্সি টেস্ট’ (JLPT) পরীক্ষা দিতে হয়।
গবেষকদের মতে, উচ্চশিক্ষায় আবেদনের আগেই লক্ষ্যভিত্তিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলোতে কাঙ্ক্ষিত নম্বর নিশ্চিত করা গেলে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও অর্থায়নের সুযোগ বহুলাংশে বেড়ে যায়।

