দৈনন্দিন জিকির ও তাসবিহ পাঠের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দরবারে নিজেকে সঁপে দেওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি বান্দার আত্মিক প্রশান্তি ও অফুরন্ত নেকি অর্জনের অন্যতম সহজ মাধ্যম। জিকিরের নানা আমলের মধ্যে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ ফজিলতপূর্ণ একটি তাসবিহ হলো—‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম’।
তাসবিহ ও অর্থ
আরবি:سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِবাংলা উচ্চারণ:‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।’অর্থ:মহান সেই আল্লাহ এবং তাঁরই সব প্রশংসা। মহান সেই আল্লাহ, যিনি সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী।
জিকিরের মূল তাৎপর্য
‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ মূলত মহান আল্লাহর অসীম পবিত্রতা ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি চমৎকার প্রকাশ। এই জিকিরে দুটি বিশেষ দিক ফুটে ওঠে:
-
আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা: ‘সুবহানাল্লাহ’ উচ্চারণের মাধ্যমে সৃষ্টিজগতের সব ধরনের ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা থেকে মহান আল্লাহ যে সম্পূর্ণ মুক্ত, সেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
-
কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা: ‘ওয়া বিহামদিহি’ বাক্য দিয়ে আল্লাহর অফুরন্ত নিয়ামতের প্রতি বান্দা তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ও তাঁর মহিমা বর্ণনা করে।
হাদিসে জিকিরের অফুরন্ত ফজিলত
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একাধিক হাদিসে এই সুনির্দিষ্ট বাক্যগুলোর অপার ফজিলতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে:
-
সমুদ্রের ফেনার মতো গুনাহ মাফ: নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ বার “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি” বলবে, তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনার চেয়েও বেশি হলেও তা মাফ করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪০৫)
-
আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়: অন্য হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় বাক্য হলো “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি”।’ (সহিহ মুসলিম: ২১৩৭)
-
জান্নাতে গাছ রোপণ: হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি” বলবে, তার জন্য জান্নাতে একটি গাছ রোপণ করা হয়।’ (জামে তিরমিজি: ৩৪৬৪)
-
বিপদ থেকে সুরক্ষার আমল: রাসুল (সা.) আরও নির্দেশ দিয়েছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি” বলবে, সে সব ধরনের বিপদ থেকে সুরক্ষিত থাকবে।’ (সুনানে তিরমিজি: ৩৩৮৮)

