মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তাঁর বিতর্কিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। ২০২৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজ প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে (Truth Social) চাঁদের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি সংক্ষেপে লেখেন: “THE MOON IS OURS” (চাঁদ আমাদের)। ক্যাপশনের পাশে মার্কিন পতাকা যুক্ত এই পোস্টটি ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
এআই পোস্টের বন্যা ও প্রেক্ষাপট
আমেরিকায় ল্যাবরেটরি ডে উইকএন্ড চলাকালীন করা এই পোস্টটি বিচ্ছিন্ন কোনো বার্তা ছিল না। ওই একই দিনে ট্রাম্প একাদিক্রমে ৪০টিরও বেশি এআই-জেনারেটেড ছবি ও বিদ্রূপাত্মক কনটেন্ট শেয়ার করেন।
-
স্পেস ফোর্স Uniform: চাঁদের ছবি শেয়ার করার ঠিক আগেই তিনি মার্কিন স্পেস ফোর্সের জন্য কাল্পনিক ধূসর-কালো রঙের একটি স্পেস স্যুট পোস্ট করেন।
-
নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব: তিনি মার্কিন অঙ্গরাজ্য নিউ মেক্সিকোর নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখা, কানাডা ও মেক্সিকোর সীমানা মার্কিন মানচিত্রে যুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালীর নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ রাখার মতো বেশ কিছু প্রতীকী ছবি ও মানচিত্র প্রকাশ করেন।
আন্তর্জাতিক আইন কী বলে?
আইন ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদের ওপর মার্কিন সার্বভৌমত্ব দাবির এই পোস্টের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
-
আউটার স্পেস ট্রিটি (১৯৬৭): জাতিসংঘ স্বীকৃত বহিরাগত মহাকাশ চুক্তি অনুযায়ী, পৃথিবীর কোনো দেশ চাঁদ বা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুর ওপর নিজস্ব সার্বভৌমত্ব বা মালিকানা দাবি করতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র নিজেও এই আন্তর্জাতিক চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া
পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই ট্রোল, মিম এবং কৌতুকের সয়লাব শুরু হয়। নেটিজেনদের একাংশ এটিকে সায়েন্স ফিকশন সিনেমা স্টার ওয়ার্স-এর সাম্রাজ্যবাদী চরিত্রের সাথে তুলনা করেছেন। এছাড়া জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি ডোজকয়েন (Dogecoin)-এর অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে মিম আকারে মন্তব্য করা হয়, “আহেম, লাইনে দাঁড়ান, সামনে আরও লোক আছে।”
হোয়াইট হাউস বা নাসার পক্ষ থেকে এটিকে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নীতির পরিবর্তন হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, মহাকাশ গবেষণায় মার্কিন আধিপত্য জাহির করতে অথবা দেশের ভেতরের সামাজিক-অর্থনৈতিক বিষয়গুলো থেকে নজর সরাতেই ট্রাম্প এমন বিতর্কিত ও বিনোদনমূলক পোস্টের আশ্রয় নিয়েছেন।

