যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তবে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ‘বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা পুরোপুরি বন্ধ’ এমন খবর সঠিক নয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনায় বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর আগে থাকা স্থগিতাদেশ বাতিল হলেও, নতুন যাচাই-পদ্ধতির প্রস্তুতির কারণে মূলত কনস্যুলার সাক্ষাৎকারে নতুন বিলম্ব তৈরি হয়েছে।
আদালতের আদেশ ও বর্তমান অবস্থা
চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপালসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা ইস্যু করা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। যুক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে মার্কিন সরকারের অর্থ বা সুবিধার ওপর নির্ভর করার ঝুঁকি (Public Charge Risk) বেশি।
পরবর্তীতে ইউএস ফেডারেল আদালত ওই নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে আদেশ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে ৭৫ দেশের জন্য সেই ঢালাও স্থগিতাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আর কার্যকর নেই।
বিলম্বের মূল কারণ
স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের খবর অনুযায়ী ভিসা প্রক্রিয়াকরণে ধীরগতি কাটেনি।
-
কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ: আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভর করবেন কি না, তা যাচাইয়ের নতুন নিয়ম এসেছে। এই যাচাই-পদ্ধতির ওপর দূতাবাসের কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
-
সময়সূচিতে পরিবর্তন: এই ট্রেনিংয়ের কারণে বিশ্বের বহু দেশে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকারের সময়সূচি পরিবর্তন, পিছিয়ে দেওয়া ও পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।
-
সাময়িক শিথিলতা: রয়টার্স জানিয়েছে, সম্প্রতি হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ডে পুনরায় ভিসা কার্যক্রম শুরু হলেও অন্যান্য দেশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ওপর প্রভাব
বিষয়টি বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাক্ষাৎকারের নতুন তারিখ ও অতিরিক্ত অপেক্ষার বিষয়ে সংশোধিত সময়সূচি মার্কিন দূতাবাস থেকে ই-মেইল বা অফিশিয়াল নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সরাসরি আবেদনকারীকে জানানো হবে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজবে কান না দিয়ে আবেদনকারীদের নিজ নিজ ভিসা কেসের অবস্থা অনলাইন ট্র্যাকার, ইউএস দূতাবাসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও সরাসরি আসা ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

