দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও কৃষিকে অধিকতর লাভজনক পেশায় রূপান্তর করতে আমদানিনির্ভরতা কমানোর কোনো বিকল্প নেই। রবিবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজের কার্যালয় থেকে পায়ে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে বৈঠকস্থলে পৌঁছে কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন। সভায় তিনি দেশে উৎপাদনে সক্ষম এমন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বৈঠকের বিস্তারিত কার্যবিবরণী উপস্থাপন করা হয়। এতে জানানো হয়, ভোজ্যতেলের ওপর আমদানিনির্ভরতা হ্রাসে সরিষা চাষে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে যেখানে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন, তা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে। এছাড়া গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণ ও এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পেঁয়াজ সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গবেষণার অগ্রগতির তথ্যানুসারে, দেশে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৯০টি ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার মধ্যে ধানের জাতই রয়েছে ১৫৫টি। পাশাপাশি এক হাজারের বেশি আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতা সহনশীল নতুন ফসলের জাত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাষাবাদে ব্যয় কমিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আধুনিক যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা বাড়াতে হবে। কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মতো যন্ত্রপাতি কৃষকদের কাছে সুলভ করতে সরকার সচেষ্ট। বর্তমানে দেশে ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই সেচ অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের সেচ খরচ যেমন কমবে, তেমনি প্রচলিত জ্বালানির ওপর চাপও হ্রাস পাবে।
কৃষকদের সরাসরি সরকারি সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চলমান। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সঠিক বিপণন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দেন। গবেষণার সুবিধা, উন্নত জাতের বীজ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধাগুলো দ্রুত তৃণমূল কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশে যেসব কৃষিপণ্য উৎপাদন সম্ভব, সেগুলোর উৎপাদন বাড়িয়ে ধীরে ধীরে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।”। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে নিজের কার্যালয় থেকে পায়ে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন তিনি।

