পারমাণবিক যুদ্ধ, প্রাণঘাতী মহামারি, বড় ধরনের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা মারাত্মক সাইবার হামলার মতো বৈশ্বিক মহাবিপর্যয়ে বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ ও সহনশীল থাকবে।
আটজন আন্তর্জাতিক গবেষকের যৌথ পর্যালোচনাভিত্তিক গবেষণা প্রতিবেদন ‘নো প্লেস টু হাইড? রিজিওনাল রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি টু গ্লোবাল ক্যাটাস্ট্রফিক রিস্ক’-এ এই তথ্য উঠে এসেছে।
কেন এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড?
গবেষকদের মতে, পৃথিবীর কোনো দেশই সব ধরনের বৈশ্বিক দুর্যোগ থেকে শতভাগ নিরাপদ নয়। তবে সামগ্রিক দিক বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তৃত সহনশীলতার বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছে।
গবেষণায় দেশ দুটির টিকে থাকার পেছনে চারটি মূল নিয়ামক চিহ্নিত করা হয়েছে:
-
ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা: বিশ্বের প্রধান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রগুলো থেকে অনেক দূরে অবস্থান করায় সরাসরি সামরিক বা কৌশলগত আঘাতের ঝুঁকি কম।
-
খাদ্যে স্বনির্ভরতা: বিশাল কৃষিজমি ও অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে নিজস্ব খাদ্য উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে তাদের।
-
কার্যকর শাসনব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠান: শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সুশাসনের কারণে সংকটকালীন সামাজিক শৃঙ্খলা ও সম্পদ বণ্টন বজায় রাখা সহজ হয়।
-
অবকাঠামোগত বিকেন্দ্রীকরণ: গুরুত্বপূর্ণ সেবা ও অবকাঠামো নির্দিষ্ট স্থানে কেন্দ্রীভূত না থাকায় এক স্থানে আঘাত আসলেও পুরো ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে না।
তবে নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রে শিল্পভিত্তিক সীমাবদ্ধতা এবং স্থানীয় ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির ঝুঁকি কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈশ্বিক ঝুঁকি ও ঘনবসতির সতর্কতা
গবেষণায় পারমাণবিক যুদ্ধ, গ্রহাণুর আঘাত, অগ্ন্যুৎপাত, ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় ও সাইবার হামলার মতো বিভিন্ন ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন:
-
ঘনবসতিপূর্ণ শহরের উচ্চ ঝুঁকি: বিদ্যুৎ, পানি, যোগাযোগ ও খাদ্য পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল বড় শহরগুলোতে একটি ব্যবস্থা অচল হলে দ্রুত চেইন-রিয়েকশনে পুরো সমাজ থমকে যেতে পারে।
-
সূর্যালোক হ্রাস ও খাদ্যসংকট: পারমাণবিক যুদ্ধ বা আগ্নেয়গিরির ধোঁয়ায় বায়ুমণ্ডল ঢেকে গেলে বিশ্বজুড়ে কৃষি উৎপাদন বন্ধ হয়ে মহামন্দা দেখা দেবে।
চূড়ান্ত বার্তা: সতর্কতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে পৃথিবীর কোনো দেশই পুরোপুরি এককভাবে সংকটমুক্ত থাকতে পারবে না। দীর্ঘমেয়াদে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অস্ট্রেলিয়া সহ যেকোনো দেশকে খাদ্য নিরাপত্তা, জাতীয় ঝুঁকি মূল্যায়ন ও স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সংহতিতে আরও বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

