প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে প্রবাসীরা ২৯৭ কোটি ৬০ লাখ (২.৯৭ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২.৫০ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) মোট ৫.৮২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
অর্থ প্রবাহ ও দৈনিক গড় চিত্র
ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হারে লেনদেন হচ্ছে। সেই হিসাবে আগস্ট মাসে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ৩৬,৪৯০ কোটি টাকা। পুরো মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রবাসীরা ৯ কোটি ৫৭ লাখ ডলার (১১৭ কোটি ৭ লাখ টাকা) পাঠিয়েছেন। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৪২ কোটি (২.৪২ বিলিয়ন) ডলার।
বিগত অর্থবছরের গতিপ্রকৃতি
বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা এ যাবতকালের সর্বোচ্চ ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। ঐ অর্থবছরে ১২ মাসের মধ্যে ৬ মাসেই প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। পুরো অর্থবছরে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২.৯৬ বিলিয়ন ডলার এসেছে, যা এর আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) মোট ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ১৭.৩৪ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসে গত মার্চে, আর মে মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩.৪২ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠান প্রবাসীরা।
ব্যাংকিং চ্যানেলে আগ্রহ বাড়ার কারণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর হুন্ডি বা অবৈধ পথে টাকা পাঠানোর প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। ডলারের দর বৃদ্ধি পাওয়া এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে সুবিধাজনক রেট মেলায় প্রবাসীরা এখন ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে বেশি উৎসাহ দেখাচ্ছেন।”
রিজার্ভ ও আমদানির বর্তমান অবস্থা
প্রবাসী আয়ের জোরালো প্রবাহের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি BPM-6 অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩,২৫০ কোটি (৩২.৫০ বিলিয়ন) ডলারে। তবে গ্রস বা সামগ্রিক হিসাবে রিজার্ভ এখন ৩,৭৪১ কোটি (৩৭.৪১ বিলিয়ন) ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তৎক্ষণাৎ ব্যবহারযোগ্য এই ৩২.৫০ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে চার মাসেরও বেশি সময়ের পণ্য আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। তবে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই-আগস্ট মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভে সাময়িক কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।

