একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, যিনি নিয়মিত দাড়ি শেভ করেন বা ছাঁটেন, তিনি তাঁর পুরো জীবনে গড় হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৩ হাজার ৩৫০ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন শুধু এই দাড়ি কাটার পেছনে। দিনের হিসাবে এটি প্রায় ১৩৯ দিন!
আজ সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম শনিবার, বিশ্ব দাড়ি দিবস। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে দাড়িপ্রেমীরা অনন্য ঢঙে উদযাপন করেন দিনটি। ২০১০ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব দাড়ি দিবসের যাত্রা শুরু হয় বলে জানায় ‘ন্যাশনাল ডে ক্যালেন্ডার’।
অনেকের ধারণায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিংবা কবি নির্মলেন্দু গুণের মতো গুণীজনেরা অঢেল সময় বাঁচাতেই হয়তো মুখভর্তি দাড়ি রাখতেন! আবার অনেকে মনে করেন দাড়িতে পুরুষত্ব ও নিজস্ব সৌন্দর্যের এক দারুণ ছাপ ফুটে ওঠে। সুন্দর লাগার এমন এক গল্প রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের জীবনেও। এক ছোট মেয়ের চিঠি পেয়েছিলেন তিনি ‘আপনি যদি দাড়ি রাখেন, আপনাকে দেখতে আরও সুন্দর লাগবে।’ সেই আবেগঘন চিঠি পেয়েই তিনি দাড়ি রাখা শুরু করেন।
সৌন্দর্যের বাইরেও দাড়ি রাখার পেছনে চিকিৎসাবিজ্ঞান বেশ কিছু চমৎকার স্বাস্থ্যগত দিক উল্লেখ করেছে:
-
রোগ প্রতিরোধে সহায়তা: পরিবেশে ভেসে থাকা ক্ষতিকর ধূলিকণা ও জীবাণুকে সরাসরি মুখে এবং শ্বাসনালীতে ঢুকতে বাধা দেয় দাড়ি। ফলে গলার বিভিন্ন ইনফেকশন ও রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
-
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: শীত বা ঠান্ডা আবহাওয়ায় মুখের ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে দাড়ি প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে।
-
ত্বকের সুরক্ষা: ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) থেকে ত্বককে রক্ষা করতে এবং শেভিংজনিত এলার্জি বা ইনফেকশন থেকে দূরে রাখতেও দাড়ির ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে।
স্বাস্থ্যের যত্ন থেকে শুরু করে ব্যক্তিত্ব প্রকাশ সব মিলিয়ে দাড়ির অবদান নেহাত কম নয়। দাড়ি রাখা বা না রাখার ব্যক্তিগত পছন্দ ছাপিয়ে আজকের দিনটি মূলত দাড়ির বিশেষ যত্ন ও দাড়ি সংস্কৃতির বৈশ্বিক উদযাপনের।

