ক্যান্সার চিকিৎসার বিকেন্দ্রীকরণ এবং ঢাকার ওপর একক চাপ কমাতে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে ১৫ তলা বিশিষ্ট সমন্বিত বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব হাসপাতালে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও পিইটি-সিটি স্ক্যানের মতো বিশ্বমানের আধুনিক সুবিধা থাকবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ এই আট বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নতুন ভবনগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। একই ছাদের নিচে ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগের জটিল চিকিৎসার সুবিধা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য।
ক্যান্সার চিকিৎসার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী সংসদে বলেন, বর্তমানে সরকারি খাতে ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত ৫০০ শয্যার ‘জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল’ দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া সরকারি মেডিকেল কলেজ ও সশস্ত্র বাহিনীর হাসপাতালগুলোতে পৃথক অনকোলজি ইউনিট চালু রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বেসরকারি খাতে ২৪টি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি, আহ্ছানিয়া মিশন হাসপাতাল এবং স্কয়ার, এভারকেয়ার, ল্যাবএইড ও ইউনাইটেডসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে অনকোলজি চিকিৎসা চালু থাকলেও তা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যয়বহুল।
বিভাগীয় পর্যায়ের এই ১৫ তলা বিশিষ্ট সমন্বিত কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণ চালু হলে প্রান্তিক অঞ্চলের রোগীদের আর চিকিৎসার জন্য রাজধানীমুখী হতে হবে না। ফলে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষায়িত সেবা পাওয়া আরও সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

