পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সেন্ট লুসিয়ায় নয়, বরং সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের (ঢাকা-১৪) উত্থাপিত এক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনটির সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মীর আহমদ বিন কাসেম তার আলোচনায় বেনজীর আহমেদ সেন্ট লুসিয়া পালিয়ে গেছেন বলে উল্লেখ করেছিলেন। এই তথ্যের সংশোধন করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যের তথ্যে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তিনি জানান, দূতাবাসের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তারা এমন কোনো বিষয়ে অবগত নন। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, বেনজীর আহমেদ বর্তমানে আমিরাতেই অবস্থান করছেন এবং সেখানে তার ওপর নজরদারি রাখতে আমিরাত সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বন্দি বিনিময় চুক্তির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সক্রিয় দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও, প্রতিটি ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিশেষ বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কঠোর পরিশ্রম করছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সক্রিয় কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছে যাতে এই ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা যায়। বেনজীর আহমেদকে ‘জাতির দুশমন’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছর ধরে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন এবং মিথ্যা মামলার নেপথ্যে থাকা এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় তিনি যে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তিনি বলেন, সরকার মীর আহমদ বিন কাসেমকে কেবল জামায়াতে ইসলামীর সদস্য হিসেবে নয়, বরং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত একজন বিরোধীদলীয় কর্মী হিসেবে দেখেছে।
গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার এই বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইলিয়াস আলীকে গুম করার সঙ্গে কর্নেল জিয়া জড়িত ছিলেন এবং তাকেও হত্যা করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশের বিচার ব্যবস্থার আওতায় পলাতক অপরাধীদের প্রত্যেককে ধরে আনতে বদ্ধপরিকর। প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দেশ লুটে ও মানুষ হত্যা করে যারা পালিয়েছেন, তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে দলমত নির্বিশেষে প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতে আপনি বলেছেন বেনজীর সেন্ট লুসিয়া চলে গেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই খুনি শুধু আপনাদের (জামায়াত) বা বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেনি, সে সাধারণ মানুষকেও হত্যা করেছে, মিথ্যা মামলা দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আপনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, আপনার তথ্যে কিছুটা ঘাটতি আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিচারের দীর্ঘ হাত দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রত্যেক সন্ত্রাসীকে টেনে-হিঁচড়ে ফিরিয়ে আনবে।’।

