কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ বন্ধ থাকার সময়সীমা আরও দুই মাস বাড়ল। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি কাতারএনার্জি ‘ফোর্স মেজর’-এর মেয়াদ সেপ্টেম্বর থেকে বাড়িয়ে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে। এতে দেশে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে উচ্চমূল্যের ‘স্পট মার্কেট’ (খোলা বাজার) থেকে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়বে, যা দেশের সার্বিক আমদানি ব্যয়ের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা যায়, কাতারএনার্জি বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং ইতালির এডিসনসহ কয়েকটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে এ-সংক্রান্ত নোটিশ পাঠিয়েছে। মূলত যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে চুক্তির বাধ্যবাধকতা থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতির ব্যবস্থা হিসেবে গত এপ্রিলে প্রথম ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছিল কাতার।
বাংলাদেশ বর্তমানে কাতার ও ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি আমদানি করে থাকে। কাতারএনার্জির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়ে ১০ দশমিক ১১৪ ডলার। অন্যদিকে ওমানের ওকিউ ট্রেডিং থেকে পাওয়া যায় ৯ দশমিক ৪৪৪ ডলারে। কিন্তু কাতারের সরবরাহ বন্ধ থাকায় জাতীয় চাহিদার ঘাটতি মেটাতে পেট্রোবাংলাকে এখন স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে কার্গো কিনতে হচ্ছে।
সম্প্রতি স্পট মার্কেটে এলএনজির দর ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদিত দর অনুযায়ী, প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি কিনতে ২৮ দশমিক ৯৫ থেকে ২৯ দশমিক ৭৯৫ ডলার পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। যা গত বছরের ডিসেম্বরের (সাড়ে ১০ ডলারের নিচে) তুলনায় প্রায় তিনগুণ।
এমন পরিস্থিতিতে দেশের বিদ্যুৎ, শিল্প ও অবকাঠামো খাতে জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বিইআরসির সাবেক সদস্য মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে গতি না বাড়িয়ে অতিরিক্ত আমদানি নির্ভরতার কারণেই আজকের এই ক্ষতি। কাতারের সরবরাহের অভাবে এখন চড়া দামে স্পট মার্কেট থেকেই কেনা ছাড়া সরকারের সামনে তাৎক্ষণিক কোনো বিকল্প নেই। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই ধাক্কা সামলাতে হলে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানের দিকেই মূল মনোযোগ দিতে হবে।

