বৈশ্বিক পোশাক উৎপাদন ও টেক্সটাইল রফতানি খাতে বড় ধরনের রিল্যাণ্ডস্কেপ বা পরিবর্তন এসেছে। ২০০৬ সালে বিশ্ববাজারে ১৪তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ ২০২৫ সাল নাগাদ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম টেক্সটাইল ও পোশাক রফতানিকারক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। একই সময়ে ধাপে ধাপে ২১তম অবস্থান থেকে উঠে এসে বিশ্ব তালিকায় তৃতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে ভিয়েতনাম। তবে একচ্ছত্র আধিপত্য ও শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে চীন।
সম্প্রতি বৈশ্বিক পোশাকশিল্পবিষয়ক প্রভাবশালী সাময়িকী ‘জাস্ট-স্টাইল’ (Just-Style) ও আন্তর্জাতিক কটন অ্যাডভাইজরি কমিটির (আইসিএসি) প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
শীর্ষ তিন দেশের নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক বাজারের ৪৪%
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে শীর্ষ তিন রফতানিকারক দেশ—চীন, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম—একত্রিত হয়ে বৈশ্বিক মোট টেক্সটাইল রফতানির প্রায় ৪৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করেছে। গত দুই দশকে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম অন্যান্য প্রতিযোগী দেশগুলোকে পেছনে ফেলে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে, যা চীনের সাথে তাদের ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে এনেছে।
আন্তর্জাতিক কটন অ্যাডভাইজরি কমিটির (আইসিএসি) পর্যবেক্ষণ
আইসিএসির আগস্ট ২০২৬-এর ‘দ্য টেক্সটাইলস অবজারভার’ প্রতিবেদন অনুযায়ী:
-
বাজারের আকার বৃদ্ধি: ২০০৬ সালে বিশ্বব্যাপী টেক্সটাইল রফতানির মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৬০ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে তা লাফিয়ে দাঁড়িয়েছে ৯১৪ বিলিয়ন ডলারে।
-
পোশাক খাতের একক প্রভাব: মোট ৯১৪ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক টেক্সটাইল রফতানির প্রায় ৬০ শতাংশই ছিল নিট ও ওভেন তৈরি পোশাকের দখলে।
আইসিএসি আরও জানায়, বিগত দুই দশকে রফতানির শীর্ষ স্থানগুলোতে এশীয় অঞ্চলের এই তিন দেশের আধিপত্য নিশ্চিত হলেও উৎপাদিত চূড়ান্ত পোশাক পণ্যের বাজার কিন্তু দিন দিন বহুমুখী ও বিস্তৃত হচ্ছে।

