প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের নতুন সময়সূচি নির্ধারণে কূটনৈতিক পর্যায়ে জোর আলোচনা চলছে। আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফরটি আয়োজনের বিষয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লি উভয় পক্ষই বিশেষ আগ্রহী বলে ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া-র বরাতে জানা গেছে।
এর আগে সফরের একটি প্রাথমিক উদ্যোগ বাতিল হওয়ার পর এবার নতুন করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
নতুন হাইকমিশনার ও সফর বাস্তবায়নের কূটনৈতিক তৎপরতা
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রের তথ্যমতে, আগামী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ অথবা নভেম্বরের শুরুতে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়নের প্রক্রিয়াটি আরও গতি লাভ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুভেচ্ছা বার্তা পাঠালে নরেন্দ্র মোদিও দ্রুত আন্তরিক প্রতিক্রিয়া জানান। শীর্ষ পর্যায়ের এই ইতিবাচক যোগাযোগ ও সৌজন্য বিনিময় দুই নেতার শীর্ষ বৈঠকের সম্ভাব্য তারিখ চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় বিশেষ অনুকূল হাওয়া জোগাচ্ছে।
অজিত ডোভালের সফর ও হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর ইস্যু
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত ডোভাল সম্প্রতি ঢাকা সফর করেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে দুই দেশের অফিশিয়াল পর্যায় থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিক, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে সফর চূড়ান্তকরণের পথে বড় একটি সংবেদনশীল অনুঘটক হয়ে আছে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত পাঠানোর অমীমাংসিত বিষয়টি দুই দেশের কূটনীতিতে আলোচনার টেবিলে থাকায় সফরটি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকে নিবিড় দৃষ্টি রাখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকমহল।

