থাইল্যান্ডের প্রখ্যাত পর্যটননগরী পাতায়ায় অনুষ্ঠিত ৩৩তম ‘অ্যামেজিং থাইল্যান্ড পাতায়া ম্যারাথন ২০২৬’-এ উজ্জ্বল উপস্থিতি জানান দিয়েছেন বাংলাদেশি দৌড়বিদরা। ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই বিশ্ব অ্যাথলেটিকস স্বীকৃত আন্তর্জাতিক রোড রেসে অংশ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ওড়ান তারা।
বিশ্বের ৫৮টিরও বেশি দেশ থেকে আসা ২১ হাজারের বেশি অ্যাথলেটের সাথে টেক্কা দিয়ে পাতায়া বিচফ্রন্ট, জোমতিয়েন বিচ রোড ও সুকুমভিত হাইওয়েজুড়ে আয়োজিত বিভিন্ন ইভেন্টে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন দেশের রানাররা।
এক পরিবারের তিন সদস্যের বিরল সাফল্য
এবারের ম্যারাথনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে এক পরিবারের তিন সদস্যের উপস্থিতি ও সফলভাবে রেস সম্পন্ন করা:
-
পূর্ণ ম্যারাথন (৪২.১৯৫ কিমি): লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করে সফলভাবে ৪২.১৯৫ কিলোমিটারের কঠিনতম ক্যাটাগরি সম্পন্ন করেন অভিজ্ঞ রানার মোহাম্মদ হাসান মাহমুদ।
-
হাফ ম্যারাথন (২১.১ কিমি): একই আন্তর্জাতিক রেসে সফলভাবে ২১.১ কিলোমিটারের হাফ ম্যারাথন ফিনিশ করেন তাঁর স্ত্রী মাহফুজা হক এবং ছেলে তাফসীর জিনান মাহমুদ।
আন্তর্জাতিক ম্যারাথনের মতো শারীরিক ও মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং আসরে একই পরিবারের এমন অনন্য অংশগ্রহণ বৈশ্বিক ক্রীড়া সম্প্রদায়ের মাঝেও প্রশংসিত হয়েছে।
প্রতিকূল আবহাওয়া ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্দীপনা
রেসের দিনগুলো বৃষ্টিমুখর ও স্যাঁতসেঁতে হলেও বাংলাদেশি রানারদের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় কোনো কমতি ছিল না। প্রতিকূল আবহাওয়াকে ছাপিয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স অর্জনে অটল ছিলেন তারা।
দৌড়বিদদের মতে:
-
ব্যক্তিগত অর্জন ও দেশের গৌরব: বিশ্বমানের ট্র্যাকে দৌড়ানো শুধু ব্যক্তিগত ফিটনেস ও মানসিক শক্তির চ্যালেঞ্জ নয়; বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে লাল-সবুজ পতাকাকে উঁচিয়ে ধরার এক অনন্য সম্মান।
-
ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা: নিয়মিত অনুশীলন, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সুশৃঙ্খল অভ্যাসের মাধ্যমে আগামী দিনে দেশের আরও বেশি উদীয়মান দৌড়বিদ আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে দেশের সুনাম কুড়িয়ে আনবেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে গড়ে ওঠা সক্রিয় ‘রানিং কমিউনিটি’র ফিটনেস সচেতনতা এবং পেশাদার ক্রীড়াচর্চার বিশ্বজনীন বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে পাতায়া ম্যারাথনের এই সাফল্যকে।

