যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে বিপুল অংকের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি ও অবৈধ কিকব্যাক (ঘুষ) লেনদেনের মামলায় জাকিয়া খান (৫৫) নামের এক ডে-কেয়ার মালিককে ৭৬ মাসের (৬ বছর ৪ মাস) কারাদণ্ড দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাঁকে ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ফেরত দেওয়ার এবং অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত আরও ৫০ লাখ ডলারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে বিচারক নাতাশা সি. মার্লে জাকিয়া খানের সাজা ঘোষণা করেন।
যেভাবে চলত জালিয়াতি
আদালতের নথি ও প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, কনি আইল্যান্ড এলাকায় অবস্থিত একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ভুয়া বিলে জালিয়াতি চালানো হয়।
জাকিয়া খান যেসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন:
-
হ্যাপি ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার
-
ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার
-
রেসপনসিবল কেয়ার স্টাফিং (হোম হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠান)
-
টানউই সার্ভিসেস (অর্থ গোপন ও নগদকরণের কাজে ব্যবহৃত প্রতিষ্ঠান)
তদন্তে দেখা যায়, বিভিন্ন মার্কেটারের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ‘মেডিকেইড’ (Medicaid)-এর সুবিধাভোগীদের এসব ডে-কেয়ার সেন্টারে নিবন্ধিত করানো হতো। এরপর তাঁদের নগদ অর্থ ও নানা উপহার বা ঘুষ দিয়ে ভুয়া হাজিরা খাতায় সই নেওয়া হতো। বাস্তবে কোনো সেবা না দিয়েই মেডিকেইডের কাছে কোটি কোটি ডলারের বিল জমা দেওয়া হতো।
গোপন ক্যামেরা ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত
মেডিকেইড কর্তৃপক্ষ ভুয়া বিলের বিপরীতে জালিয়াতি চক্রটিকে প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছিল। পরে মার্কিন ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউ ইয়র্কের প্রসিকিউটরদের এক আন্ডারকভার অভিযানে জাকিয়া খানের কার্যালয়ে অবৈধ কিকব্যাক লেনদেনের দৃশ্য ধরা পড়ে।
২০২৫ সালের আগস্টে জাকিয়া খান হেলথ কেয়ার জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তাঁর বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও দুটি স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় (HHS-OIG), হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (HSI) এবং নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (NYPD) যৌথভাবে এই অপরাধ চক্রের ওপর তদন্ত পরিচালনা করে।

