টানা ভারী বর্ষণ ও প্রবল নিম্নচাপের প্রভাবে আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়েছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্কক। শহরের ঝা-চকচকে সড়ক থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী ফ্লোরাল মার্কেট সবই এখন এক হাঁটু জলের নিচে। হঠাৎ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপাকে পড়েছেন থাইল্যান্ডে ঘুরতে যাওয়া দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পর্যটক।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৬ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের ৫০টি জেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বন্যাকবলিত এলাকা’ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।

রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টি ও স্থবির জনজীবন
থাই আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আন্দামান সাগর ও গালফ অব থাইল্যান্ডে সৃষ্ট শক্তিশালী নিম্নচাপ এবং সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বর্ষণ শুরু হয়েছে। ১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যাঙ্ককে প্রায় ৪৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড় বৃষ্টিপাতের (২৬৯ মিমি) তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
বন্যার প্রভাব ও বর্তমান চিত্র:
-
স্কুল-কলেজ বন্ধ: পরিস্থিতি মোকাবেলায় থাইল্যান্ড জুড়ে প্রায় ৪০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
-
যানচলাচল ব্যাহত: মূল সড়কগুলো জলমগ্ন থাকায় গণপরিবহন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে মানুষকে উদ্ধারকাজে নৌকা ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে।
-
জরুরি উদ্ধার অভিযান: নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ব্যাঙ্ককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপান্ত জানিয়েছেন, বৃষ্টি পুরোপুরি থামলেও শহরের জমা জল নিষ্কাশন করতে অন্তত ২ থেকে ৩ দিন সময় লেগে যাবে।
ধস নেমেছে পর্যটন খাতে, বিমানবন্দর চলাচলে সতর্কতা
সেপ্টেম্বর মৌসুমে প্রতি বছর ব্যাঙ্কক ও পাতায়ায় বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের বিপুল সমাগম ঘটে। তবে হঠাত বন্যার কারণে বুকিং বাতিল করছেন শত শত পর্যটক। ফলে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় স্ট্রিট ফুড বিক্রেতা থেকে শুরু করে পাঁচ তারকা হোটেল ও বার-রেস্তোরাঁ মালিকেরা।
থাইল্যান্ডের পর্যটন কর্তৃপক্ষ (TAT) জানিয়েছে:
-
সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (BKK) এবং ডন মুয়াং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DMK) সচল রয়েছে।
-
তবে বিমানবন্দরগামী সড়ক জলমগ্ন থাকায় ও ফ্লাইট চলাচলে বিলম্বের আশঙ্কায় যাত্রীদের হাতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে বের হতে বলা হয়েছে।
-
ট্রাফিক পুলিশ বিশেষভাবে লাত ক্রাবাং (Lat Krabang) এলাকার জলমগ্ন পথ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

