যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করতে গেলে যেকোনো অভিবাসীর মনে প্রথম প্রশ্ন আসে—কোন শহর জীবনধারণ ও মানিয়ে নেওয়ার জন্য সবচেয়ে সহজ হবে? বিশেষ করে কর্মসংস্থান, সাশ্রয়ী আবাসন, বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি, মসজিদ, হালাল খাবার এবং বিপদে সাহায্য করার মতো চেনা মানুষ পাওয়ার বিষয়টি নতুনদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে।
সাম্প্রতিক সময়ে নতুন অভিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোন শহরটি সবচেয়ে উপযোগী, তা নিয়ে প্রবাসী সমাজে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
পেশা ও কমিউনিটির কেন্দ্রবিন্দু: নিউইয়র্ক ও আশপাশের অঙ্গরাজ্য
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারে (Pew Research Center) তথ্য ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশটিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের প্রায় ৪৪ শতাংশই নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন। এ ছাড়া নিউ জার্সি, মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও ফ্লোরিডাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণের বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।
অভিজ্ঞ প্রবাসীদের মতে, নিউইয়র্ক সিটিতে সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি থাকায় নতুনদের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় কাজ খুঁজে পাওয়া তুলনামূলক সহজ। নিউ জার্সির প্যাটারসন শহরও বাংলাদেশিদের জন্য অন্যতম বড় পরিচিত আবাসস্থল হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
বড় কমিউনিটির সুবিধা
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন দেশে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী দেশি কমিউনিটির কাছাকাছি থাকা বড় ধরনের সুবিধা প্রদান করে:
- সামাজিক ও ধর্মীয় অবকাঠামো: এলাকাগুলোতে প্রচুর মসজিদ, হালাল রেস্টুরেন্ট এবং দেশি গ্রোসারি শপ থাকে।
- সহযোগিতার হাত: কমিউনিটি সংগঠন ও পরিচিত মানুষের উপস্থিতির কারণে ভাষা ও প্রাথমিক কাগজপত্র সংক্রান্ত সহায়তায় কাজ পাওয়া সহজ হয়।
শহর বাছাইয়ে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কোনো নির্দিষ্ট শহরই সবার জন্য এককভাবে উপযোগী হতে পারে না। কারণ একেক শহরের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন:
- জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাড়িভাড়া: নিউইয়র্ক বা ক্যালিফোর্নিয়ার মতো জায়গায় কাজের সুযোগ বেশি হলেও জীবনযাত্রার খরচ ও বাড়িভাড়া অত্যন্ত চড়া।
- পরিবহন সুবিধা: পাবলিক ট্রানজিট বা গণপরিবহন যেসব শহরে উন্নত, সেখানে গাড়ি কেনা ছাড়াই শুরুতে যাতায়াত ও কাজ করা সম্ভব হয়।
- বিকল্প সুযোগ (টেক্সাস ও মিশিগান): জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলক কম এবং সাশ্রয়ী বাসস্থানের কারণে অনেকেই এখন টেক্সাস বা মিশিগানের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোকে বেছে নিচ্ছেন।
প্রবাসীদের পরামর্শ
অভিজ্ঞ প্রবাসী বাংলাদেশিরা নতুন অভিবাসীদের পরামর্শ দিচ্ছেন যে, কোনো শহরে চূড়ান্তভাবে যাওয়ার আগে সেখানকার স্থানীয় প্রবাসীদের থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা জানা, সামাজিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সরকারি কর্মসংস্থান ও সুযোগ-সুবিধার তথ্য যাচাই করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রে সফলভাবে নতুন জীবন শুরু করার কোনো একক রেসিপি নেই। তবে কর্মসংস্থানের সুযোগ, সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা এবং একটি সহায়তামূলক কমিউনিটি—এই বিষয়গুলোর সমন্বয় ঘটিয়ে শহর নির্বাচন করলে নতুন অভিবাসীদের প্রাথমিক দিনগুলোর সংগ্রাম অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

